কেন্দ্রকে মেগা প্রস্তাব ঘিরে তোলপাড়!

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গে দ্রুতগতির ‘নমো ভারত’ (RRTS – Regional Rapid Transit System) ট্রেন চালানো এবং রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকারের কাছে রাজ্য ও রেল প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
১. মেগা প্রস্তাবের মূল বিষয় ও লক্ষ্য
কী এই ‘নমো ভারত’?: নমো ভারত হলো মূলত আধা-উচ্চগতির (Semi-High-Speed) আঞ্চলিক ট্রেন, যা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। মূল শহরকে পার্শ্ববর্তী শিল্প ও আবাসিক উপশহরের সঙ্গে দ্রুত যুক্ত করাই এর মূল লক্ষ্য।
প্রস্তাবিত রুট: কলকাতা শহর ও এর পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহ (যেমন: শিলিগুড়ি, আসানসোল, দুর্গাপুর, বর্ধমান এবং খড়গপুর)-কে এই নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কলকাতা-শিলিগুড়ি করিডোর: উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের দূরত্ব কমাতে এবং যাতায়াতের সময় আধেকে নামিয়ে আনতে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির সঙ্গে কলকাতার সংযোগ স্থাপনই এই প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
২. কেন এই উদ্যোগ? (যাত্রীদের সম্ভাব্য সুবিধা)
সময় সাশ্রয়: দূরপাল্লার স্বাভাবিক ট্রেনের তুলনায় নমো ভারত ট্রেনের গতি অনেকটাই বেশি। ফলে কলকাতা থেকে বর্ধমান বা আসানসোলের দূরত্ব মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বা মিনিটের ব্যবধানে طے করা সম্ভব হবে।
দৈনন্দিন যাতায়াতকারীদের সুবিধা: কর্মসূত্রে যারা প্রতিদিন কলকাতা বা শিল্পাঞ্চলগুলোতে যাতায়াত করেন, তাদের সময় বাঁচানোর পাশাপাশি লোকাল ট্রেনের ওপর অতিরিক্ত ভিড়ের চাপ কমবে।
অর্থনৈতিক উন্নতি: দ্রুতগামী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে দক্ষিণবঙ্গের সাথে সাথে উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে।
৩. রাজনৈতিক ও সামাজিক শোরগোল (তোলপাড় কেন?)
নামকরণ বিতর্ক: জাতীয় স্তরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামানুসারে ‘নমো ভারত’ নামকরণ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প চালু নিয়ে বিরোধী ও শাসকদলের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
প্রকল্পের আর্থিক ভাগাভাগি: রেল প্রকল্পগুলোতে রাজ্য ও কেন্দ্রের যৌথ অর্থায়ন (Joint Venture) বা জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের নীতিগত অবস্থানের বৈষম্য আলোচনায় রয়েছে।
জমি অধিগ্রহণ ও পরিকাঠামো: উচ্চগতির জন্য আলাদা ট্র্যাক এবং উন্নত সিগন্যালিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিপুল জমি এবং মূলধনের প্রয়োজন, যা কার্যকর করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।
বর্তমান অবস্থা
রেল মন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই (Feasibility Study) এবং প্রাথমিক রুট ম্যাপ তৈরি নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। কেন্দ্র চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে এবং ভূমিসংক্রান্ত বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি হলে কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া এগোবে।