তারেকের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যাবেন না নরেন্দ্র মোদী

মোদীকে আমন্ত্রণে তীব্র আপত্তি ছিল ইউনুসের। শুধু তারেক রহমানের চাপেই এই আমন্ত্রণ। যার নিজের কী হবে সেটারই ঠিক নেই। তিনি আবার অন্যকে আমন্ত্রণের বিষয় স্থির করছেন। প্রশ্ন উঠছে বেকার ইউনুস এবার কি করবেন?

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক : বাংলাদেশে পট পরিবর্তন নানা দিক থেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর মাঝের ১৮ মাস অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধীনে ছিলেন বাংলাদেশবাসী। তার প্রধান উপদেষ্টা পদে ছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনুস। সেই টালমাটাল সময়ে বিদেশ থেকে কার্যত ইউনুসকে উড়িয়ে এনে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। নেপথ্যে ছিলেন আন্দোলনকারী ছাত্রনেতাদের একটা বিরাট অংশ। আর তাই প্রথমদিকে ছাত্রনেতাদের বেশ কয়েকজন স্থান পেয়েছিলেন ইউনুসের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের উপদেষ্টা পদে। কিন্তু এবার নবনির্বাচিত সরকার দেশের শাসনক্ষমতার ভার নিলে এই অন্তর্বর্তী প্রশাসন সম্পূর্ণ অবলুপ্ত হয়ে যাবে। পদ খোয়াবেন ইউনুসও। তারপর তাঁর ভবিষ্যৎ কী? অর্থাৎ বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতার ভার হাতে নেওয়ার শপথ গ্রহণ অনূষ্ঠানেই কার্যত বেকারত্বের শিলমোহর পড়বে ইউনুসের গায়ে আর সেই ইউনুসই নাকি এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশ নিয়ে তার সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন। শোনা যাচ্ছে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে নাকি তীব্র আপত্তি ছিল মহম্মদ ইউনুসের।

ইউনুস হয়ত ভুলে যাচ্ছেন তিনি যে আর কেউ নন আসলে ওই! অভ্যাস! এতদিন দায়িত্ব নিয়ে যেভাবে বাংলাদেশকে ডুবিয়েছেন কিংবা যেভাবে দায়িত্ব নিয়ে ভারতকে লাগাতার অপমান করেছেন সেই অভ্যাস এখনও তার যায়নি সেটা স্পষ্ট। এবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির শনিবারই জানিয়েছিলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ় শরিফকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। বিএনপি সূত্রের খবর, তারেকের শপথগ্রহণের অনুষ্ঠানে কোন কোন বিদেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ করা হবে, তাঁর দপ্তর তা ঠিক করলেও এঁদের আমন্ত্রণ জানানোর দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের। কারণ, এখনও তাঁরাই বহাল সরকারের কুর্সিতে। বিশেষ সূত্রের খবর, বিএনপি চেয়ারম্যানের তরফে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের দপ্তরে তালিকা পাঠানোর পরেই এই তালিকায় থাকা মোদীকে আমন্ত্রণের বিষয়ে আপত্তির কথা জানায় ইউনূসের দপ্তর। যার পাল্টা বিএনপি চেয়ারম্যানের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় এমন আপত্তি জানানোর কোনও এক্তিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের নেই। প্রোটোকল অনুযায়ী তাঁদের দেওয়া তালিকা মেনেই অতিথিদের আমন্ত্রণ করতে হবে। এর পরে অবশ্য আর কথা বাড়ায়নি ইউনূসের দপ্তর।কিন্তু কেন আপত্তি জানাল ইউনূসের দপ্তর? ভারতের বিদেশ দপ্তরের এক কর্তার কথায় ইউনুসের আপত্তি না জানানোটাই অস্বাভাবিক। অনির্বাচিত এই সরকারের অস্তিত্বকে এই ১৮ মাসে কার্যত স্বীকারই করেনি নরেন্দ্র মোদী সরকার। ভিসা চালু বা অন্যান্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত বদলের প্রশ্ন যখনই উঠেছে, বিদেশ মন্ত্রক সাফ জানিয়েছে— নির্বাচিত একটি সরকার পড়শি দেশে এলে তার পরেই এ সব বিষয়ে ভাবা হবে।’

বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করও একটি প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, ‘এই অস্থায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কথাবার্তায় দীর্ঘ মেয়াদে কোনও কাজ হবে বলে আমরা মনে করি না।’ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পরে মোদীর শোকবার্তা নিয়ে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর ঢাকায় গিয়ে খালেদা-পুত্র তারেকের সঙ্গে দেখা করেন। দীর্ঘ সময় খালেদার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে হাজির থাকেন। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা জানান, পাশের ঘরেই ইউনূস রয়েছেন, তিনি যদি চান সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন। কিন্তু জয়শঙ্কর কোনও ভাবান্তর দেখাননি বলে একাধিক সূত্রের দাবি। আরও এক বার তিনি বরং তারেকের সঙ্গে দেখা করে ঢাকা ছাড়েন। বাকি বিদেশি অতিথিরা যখন ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে, ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করছিলেন, তখন জয়শঙ্করের এই ‘শীতল’ আচরণ ইউনূসের প্রতি উপেক্ষা বলেই মনে করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই প্রেক্ষিতে তাঁদের পক্ষে মোদীকে আমন্ত্রণ জানানোটা অস্বস্তিকর হওয়ারই কথা বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের। তাই তারেকের দিক থেকে কড়া অবস্থানে মোদীকে সেই আমন্ত্রণ পাঠাতে বাধ্য হয় ইউনূস সরকার। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় প্রধানমন্ত্রী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মঙ্গলবার ঢাকায় হাজির থাকতে পারছেন না। পরিবর্তে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি প্রধানমন্ত্রী মোদীর শুভেচ্ছাবার্তা নিয়ে হাজির থাকবেন সেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে। এর আগে মোদীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সংসদের তখনকার স্পিকার শিরিন শরমিন চৌধুরী। আবার অন্যদিকে আরও একটা বিষয় অন্তরব্রতী সরকারের শাসন ক্ষমতার ভার থাকা কালীন ইউনুস না হয় দায়িত্ব সামলেছেন কিন্তু এখন তিনি কি করবেন? নবনির্বাচিত সরকার দেশের শাসনক্ষমতার ভার নিলে এই অন্তর্বর্তী প্রশাসন সম্পূর্ণ অবলুপ্ত হয়ে যাবে। ২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে বসার আগে পর্যন্ত ইউনুস মালয়েশিয়ার আলবুখারি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদে ছিলেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার একটি বিজনেস স্কুলের বড় প্রশাসনিক পদ রয়েছে তাঁর। তবে কি আবার শিক্ষাক্ষেত্রেই ফিরে যাবেন ইউনুস?তারেক রহমানের উপদেষ্টা তথা বিএনপির দীর্ঘকালের নেতা হুমায়ুন কবীর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ”তারেক রহমান সাহেব বিশ্বাস করেন, দেশটা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে সর্বসেরাদের পরামর্শ অনুসারে। সেভাবেই তিনি প্রশাসন সাজিয়ে তুলবেন। তবে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনে কার কী ভূমিকা হবে, তা ঠিক হয়নি। যাঁরা দেশগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন বলে তিনি মনে করেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সব স্থির করা হবে। স্বাভাবিক নীতি অনুযায়ী, সেই আলোচনায় দেশের একজন বিশিষ্ট মানুষ হিসেবে প্রফেসর মহম্মদ ইউনুসও থাকতে পারেন। পাশাপাশি ১৮ মাস ধরে দেশের প্রশাসন চালানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে। সবমিলিয়ে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে ইউনুসের গুরুত্ব ভালোই। তাই তারেক তাঁকে দেশের প্রেসিডেন্ট পদে নিয়ে আসতে পারেন। সম্ভবত ইউনুসের ইচ্ছে এবং লক্ষ্যও তেমনই – দেশের রাষ্ট্রপতি পদ। তবে সবটাই বলবে সময়। আবার অন্যদিকে এটাও বলতেই হচ্ছে যে যেহেতু ইউনুসকে নিয়ে বাংলাদেশের অন্দরেও প্রচুর ক্ষোভের জন্ম হয়েছে, হাদি হত্যার কোন বিচার দিতে পারেননি তিনি, সংখ্যালঘুরা লাগাতার বিপন্ন হয়েছেন তার আমলেই, দীপু দাসের পরিবারকে দেখেননি এর পাশাপাশি তার শাসন কালে এমন একাধিক কাজ তিনি করেছেন যা নিয়ে দেশের অনদ্রে জমা হয়েছে তীব্র অস্নতোষ ফলতে এবার কি হবে ইউনুসের? তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।