ভোটের মুখেই একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি

মহিলাদের স্বনির্ভর করতে প্রতিশ্রুতির বন্যা এনডিএ-র। ক্ষমতায় এলে মহিলাদের আর্থিক সাহায্য দেবে এনডিএ।

ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের আর বেশিদিন বাকি নেই। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে নিজেদের ইস্তেহার প্রকাশ করল এনডিএ জোট। ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক পরিবারের একজনকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তারা। শুধু তাই নয় বিহারের মহিলাদের মাসে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে। এই রকম একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতির বন্যা ইস্তেহারে প্রকাশ করে দিন এনডিএ জোট। তেজস্বী যাদব এই প্রসঙ্গে বলেছেন, “বিহারে ইন্ডিয়া জোট ক্ষমতায় আসলে বিহারের সার্বিক উন্নয়ন হবে।”

প্রথম দফার ভোট হতে আর মাত্র এক সপ্তাহের অপেক্ষা। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবারই নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করলেন নীতিশ কুমার ও জেপি নাড্ডা। তবে এই ইস্তেহার একেবারেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে মহিলা ভোটব্যাঙ্ক এবারের টার্গেট এনডিএ-র। নীতিশ কুমারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, তারা ক্ষমতায় থাকলে মহিলাদের আত্মনির্ভর করার জন্য ২ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য দেবেন। মহিলাদের লাখপতি দিদি বানানোর লক্ষ তাদের। উদ্যোগপতি মহিলাদের কোটিপতি বানাবে সরকার।

ইন্ডিয়া জোট এর আগে প্রতিটি পরিবারের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এবার তার পাল্টা দিলেন নীতিশ কুমার। এক কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা। ইস্তেহারে বলা হচ্ছে, এনডিএ পুনরায় ক্ষমতায় এলে বিহারে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সার্ভে হবে। দক্ষতার ভিত্তিতে প্রত্যের যুবকের চাকরি হবে। বেকারত্বের সংখ্যা কমানোই তাদের উদ্দেশ্য। শুধু তাই নয়, কৃষকদের জন্যও বড়ো ঘোষণা দিয়েছে নীতিশরা। কেন্দ্রীয় কৃষক প্রকল্পের অধীনে প্রত্যেক কৃষককে বছরে ৯ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্য প্রদান করবে সরকার। কৃষি কাজে উন্নয়নের জন্য ১ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। তারা আরও বলছে, ক্ষমতায় পুনরায় ফিরে আসলে ৩৬ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ৭ টা এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি করা হবে বিহারে। তিনটি নতুন বিমানবন্দর হবে। চারটি শহরে মেট্রো পরিষেবাও চালু হবে। ৫০ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে বিহারে শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এনডিএ জোট।

এই ইস্তেহার প্রকাশ করার পরই সরব হয়েছে বিরোধীরা। বিহারে গত ২০ বছরের বেশি সময় ধরেই ক্ষমতায় আছে নীতিশ কুমার। তাহলে এতদিনে এই কাজগুলি কেন করেনি তারা। এখন করার প্রয়োজন কেন পড়ছে। যদি করার হত এতদিনে করত তারা। নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এইসব প্রতিশ্রুতি কেন দিতে হচ্ছে বলেও প্রশ্ন তোলে বিরোধীরা।