সোনমের অনশনে নড়েচড়ে বসল দিল্লি পুলিশ!

সোনমকে হাসপাতালে সরানোর পরই তৎপর দিল্লি পুলিশ, কমিশনারের জরুরি বৈঠক।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তরের পর দিল্লির আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তেই নড়েচড়ে বসল দিল্লি পুলিশ। শনিবার দুপুর ১টায় পুলিশ সদর দফতরে জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকেন সদ্য দায়িত্ব নেওয়া দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার। বৈঠকে ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) পদমর্যাদার সমস্ত আধিকারিককে সশরীরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, বৈঠকে মূলত দু’টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে— সোনম ওয়াংচুককে ঘিরে সম্ভাব্য বিক্ষোভ পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন উপলক্ষে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা।

শনিবার সকালে যন্তরমন্তরের অনশন মঞ্চ থেকে জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দিল্লি পুলিশের দাবি, এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে। পুলিশের বক্তব্য, প্রতিদিনের মতো আদালত-নির্দেশিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে চিকিৎসক দল যন্তরমন্তরে পৌঁছলে কিছু বিক্ষোভকারীর বাধার মুখে পড়তে হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কায় এবং ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করেই তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

নয়া দিল্লির ডিসিপি সচিন শর্মা জানান, ২০ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাওয়ার ফলে ওয়াংচুক শারীরিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন এবং তাঁর শরীরে জলশূন্যতার লক্ষণ দেখা গিয়েছে। সফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করছেন এবং প্রয়োজনীয় আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

ওয়াংচুককে হাসপাতালে স্থানান্তরের পর যন্তরমন্তর থেকে বাকি বিক্ষোভকারীদেরও সরিয়ে দেয় পুলিশ। এরপরই রাজধানীর সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিশেষ পুলিশ কমিশনার (আইন-শৃঙ্খলা) দেবেশ চন্দ্র শ্রীবাস্তবের নেতৃত্বে একটি বৈঠক হয়। সেখানে যৌথ পুলিশ কমিশনার দীপক পুরোহিত, ডিসিপি সচিন শর্মা-সহ বিশেষ শাখার একাধিক আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।

এ দিকে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন ২০ জুলাই শুরু হয়ে ১৩ অগস্ট পর্যন্ত চলার কথা। সেই প্রেক্ষিতে সংসদ ভবন, ইন্ডিয়া গেট-সহ নয়া দিল্লি জেলার স্পর্শকাতর এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি রাখা হয়েছে। এই ধারায় চার বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, অনুমতিহীন মিছিল ও অস্ত্র বহনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, আকস্মিক বিক্ষোভ বা অশান্তির আশঙ্কায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিরাপত্তা বলয়ের কড়াকড়ি আরও বাড়ানো হচ্ছে।