নিহত খামেনেই, প্রকাশ্যে অডিও বার্তা

হোসেইনির কথায়, বিস্ফোরণের তীব্রতায় ইরানের সামরিক প্রধান মোহাম্মদ শিরাজি কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে যান। তাঁর দেহের অবশিষ্টাংশ বলতে নাকি “কয়েক কিলোগ্রাম মাংসপিণ্ড” মাত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে পশ্চিম এশিয়া। তার উপর হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। তার পর বিশ্বজুড়ে বাড়ছে পেট্রল, ডিজেল এবং এলপিজি গ্যাসের দাম।

এরইমধ্যে নতুন করে সামনে এল বিস্ফোরক তথ্য। একটি অডিও রেকর্ডিং ফাঁস হয়েছে, যা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর হাতে এসেছে। জানা গিয়েছে, হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান খামেনেইয়ের ছেলে তথা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। বিস্ফোরণের কয়েক মিনিট আগে তিনি ভবনের বাইরে বেরিয়ে যাওয়াতেই প্রাণে রক্ষা পান বলে দাবি করা হয়েছে ওই অডিওতে।

যদিও ওই অডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলি। দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অডিওটি নাকি আলি খামেনেইয়ের দফতরের প্রোটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনির। গত ১২ মার্চ তেহরানে এক বৈঠকে তিনি এই ঘটনার বর্ণনা দেন বলেই দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা ৩২ মিনিট নাগাদ তেহরানে খামেনেই পরিবারের কম্পাউন্ডে একাধিক হামলা চালানো হয়। লক্ষ্য ছিল একই সঙ্গে খামেনেই পরিবার ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করা। হোসেইনির দাবি, বিস্ফোরণের ঠিক আগে ৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনেই কিছু কাজের জন্য ভবনের উঠোনে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরে তিনি আবার উপরে ফিরছিলেন। সেই সময়েই শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা কম্পাউন্ড।

অডিওতে আরও দাবি করা হয়েছে, বিস্ফোরণে মোজতবা খামেনেই সামান্য পায়ে আঘাত পেলেও প্রাণে বেঁচে যান। তবে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং তাঁদের এক পুত্রের।

একই সময়ে খামেনেইয়ের আরেক ছেলে মোজতফা খামেনেই নাকি কম্পাউন্ডের কাছেই ছিলেন। তবে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী কোনওভাবে প্রাণে বেঁচে যান বলে দাবি করা হয়েছে।

হামলার বিভীষিকাময় চিত্রও উঠে এসেছে ওই অডিওতে। হোসেইনির কথায়, বিস্ফোরণের তীব্রতায় ইরানের সামরিক প্রধান মোহাম্মদ শিরাজি কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে যান। তাঁর দেহের অবশিষ্টাংশ বলতে নাকি “কয়েক কিলোগ্রাম মাংসপিণ্ড” মাত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এ ছাড়াও খামেনেইয়ের জামাই মিসবাহ আল-হুদা বাঘেরি কানির মৃত্যুর কথাও উল্লেখ রয়েছে ওই অডিওতে। দাবি করা হয়েছে, বিস্ফোরণের অভিঘাতে তাঁর মাথা দুভগ হয়ে গিয়েছিল।

ফাঁস হওয়া ওই রেকর্ডিংয়ে আরও বলা হয়েছে, হামলাটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। একই সময়ে খামেনেই পরিবারের একাধিক বাসভবন এবং অফিস কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অংশে আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র বা বিস্ফোরক। ফলে মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকেও এখনও পর্যন্ত এই ফাঁস হওয়া অডিও নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। ঘটনার প্রকৃত সত্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা অব্যাহত।