বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের নাম প্রকাশ্যে !

এনডিএ-র পথে ১৯ তৃণমূল সাংসদ! প্রকাশ্যে সই করা চিঠি, তালিকায় দেব-রচনা-সায়নী সহ চেনা মুখের সাংসদরা।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : জল্পনা চলছিল কয়েক দিন ধরেই। অবশেষে প্রকাশ্যে এল সেই চিঠি, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছিল। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে দেওয়া ওই চিঠিতে সই করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ১৯ জন সাংসদ। চিঠিতে তাঁরা নিজেদের এনডিএ ব্লকের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, কারা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব থেকে কার্যত মুখ ফিরিয়েছেন।

রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা তীব্র হয়েছিল। সম্প্রতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ শিবিরের বিদ্রোহে পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তার পরেই সংসদীয় দলেও বড় ধাক্কার মুখে পড়েন মমতা। গত কয়েক দিন ধরে শোনা যাচ্ছিল, প্রায় ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এনডিএ শিবিরে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন। শুক্রবার সেই চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই জল্পনার অবসান হল।

চিঠিতে সই করা সাংসদদের তালিকায় রয়েছেন দলের পরিচিত মুখেরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অভিনেতা-সাংসদ দেব, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, শতাব্দী রায় এবং প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যায়। রয়েছেন তৃণমূলের যুবনেত্রী সায়নী ঘোষও, যিনি সম্প্রতি দলের নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এছাড়া বিদ্রোহী শিবিরে নাম রয়েছে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মালা রায়, আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান, কালীপদ সোরেন, পার্থ ভৌমিক, মিতালি বাগ, অরূপ চক্রবর্তী, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, শর্মিলা সরকার, অসিত মাল, বাপি হালদার এবং ইউসুফ পাঠানের।

সূত্রের দাবি, গত ৯ জুন দিল্লির ৯, মতিলাল নেহরু মার্গে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রথম দফায় ১৪ জন সাংসদ চিঠিতে সই করেন। পরে আরও পাঁচ জন সাংসদ তাতে স্বাক্ষর করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মালা রায়, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান, মিতালি বাগ এবং রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার এই সাংসদেরা ফের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। এনডিএ-কে সমর্থনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো এবং লোকসভায় পৃথক আসন বরাদ্দের দাবিতে নতুন করে আবেদন জানানো হতে পারে। তার আগে রবিবার রাতেই অধিকাংশ সাংসদ দিল্লি পৌঁছবেন। সেখানেই একটি নৈশভোজ বৈঠকে পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সূত্রের দাবি। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।