জ্বালানি সংরক্ষণ, লজিস্টিক পরিকাঠামো এবং আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলির বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে কুরাসাওয়ের অর্থমন্ত্রী চার্লস কুপারের সঙ্গে বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। পাশাপাশি, ওষুধ ও শিক্ষাক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাঙ্ক-আইএমএফের বার্ষিক বৈঠকের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অর্থ মন্ত্রকের তরফে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।বৈঠকে কুরাসাওয়ের অর্থমন্ত্রী চার্লস কুপার সে দেশের জ্বালানি সংরক্ষণ এবং লজিস্টিক পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য বিভিন্ন বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে হাইড্রোকার্বন সংরক্ষণের পরিকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং জাহাজ মেরামতির সুবিধা। পাশাপাশি, দ্বীপরাষ্ট্রটির আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্রেও বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানান তিনি। নেদারল্যান্ডস রাজ্যের আইনি কাঠামো যে স্থিতিশীলতা প্রদান করে, সেই বিষয়টিও তুলে ধরেন কুপার।
কুরাসাওয়ের তরফে প্রকাশ করা আগ্রহকে স্বাগত জানান নির্মলা সীতারমন। অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ভারতীয় সংস্থাগুলির কাছে এই বিনিয়োগের সুযোগগুলি তুলে ধরা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ভারত থেকে জেনেরিক ওষুধ সরবরাহ এবং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
কুরাসাওয়ের তরফে কোন কোন জেনেরিক ওষুধের প্রয়োজন রয়েছে, তা ভারতকে জানানোর জন্য সে দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানান নির্মলা সীতারমন। পরবর্তী সময়ে এই চাহিদার বিষয়টি ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। এর ফলে কুরাসাওয়ের সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধের চাহিদা পূরণে ভারতীয় ওষুধ সংস্থাগুলির সঙ্গে সহযোগিতার নতুন পথ খুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।এছাড়াও, দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (DTAA) এবং দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি (BIT) নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই অর্থমন্ত্রী। অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে যে এই চুক্তিগুলি নেদারল্যান্ডস রাজ্যের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।
পরিকাঠামো, ওষুধ শিল্প এবং আর্থিক পরিষেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে ভারত। সেই প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।বৈঠকের আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কুরাসাওয়ের তরফে নির্মলা সীতারমনকে জানানো হয়েছে যে সে দেশের ভারতীয় সম্প্রদায়ের অনুরোধে একটি গোলচত্বরের নামকরণ করা হয়েছে মহাত্মা গান্ধীর নামে। সেখানে শীঘ্রই গান্ধীর একটি মূর্তি উন্মোচন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।
বৈঠকে দুই পক্ষই আলোচনার বিষয়গুলি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, ভারত ও কুরাসাওয়ের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উভয় পক্ষ স্বীকার করেছে। সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংরক্ষণ ও লজিস্টিক পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ, ভারতীয় জেনেরিক ওষুধের সরবরাহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে অংশীদারিত্ব এই তিনটি ক্ষেত্রেই ভবিষ্যতে ভারত ও কুরাসাওয়ের সহযোগিতা বাড়ানোর পথ প্রশস্ত হতে পারে।