দিল্লিতে তালিবানি বিদেশমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকে নিষিদ্ধ মহিলা!

বিতর্ক ছড়িয়ে পড়তেই  দায় এড়াল ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: দিল্লিতে তালিবানি মন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে বিস্তর বিতর্কে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিতর্কে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক। আটদিনের সফরে বৃহস্পতিবার ভারতে এসেছেন আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর দিল্লির আফগান দূতাবাসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেই সাংবাদিক বৈঠক ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। শোনা যাচ্ছে সেই বৈঠকে কোনও মহিলা সাংবাদিককে দেখা যায়নি। যে সাংবাদিকদের দেখা গিয়েছে, তাঁরা সকলেই পুরুষ। কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমে আবার প্রশ্ন উঠছে ওই সাংবাদিক বৈঠকে মহিলাদেশ প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। বলা ভালো মহিলাদের ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। তা নিয়েই চরমে উঠেছে রাজনৈতিক বিতর্ক। তালিবানরা গোঁড়া, রক্ষণশীল, কট্টরপন্থী। ভারতের মাটিতে কি তারই কি প্রতিফলন দেখা গেল তালিবানি মন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকে? তালিবানি চাপের মুখেই কি এমনটা করতে বাধ্য হয়েছে ভারত সরকার? প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিঁধে  সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সহ বিরোধী নেতা নেত্রীরা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক্স পোস্টে লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী, প্রকাশ্য মঞ্চে মহিলা সাংবাদিকদের বাদ দেওয়া হল। ভারতের প্রত্যেক মহিলাকে বলে দিন, আপনি তাঁদের সমর্থনে দাঁড়াতে ব্যর্থ।”

কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এক্স পোস্টে লিখেছেন,  “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি, ভারতের মাটিতে তালিবান বিদেশমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকে মহিলা সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হল না। দয়া করে এই নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করুন।”

এদিকে কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম বলেন, “মহিলা সহকর্মীদের না-দেখতে পেয়ে পুরুষ সাংবাদিকদের সাংবাদিক বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসা উচিৎ ছিল।”

তালিবানি মন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে বিতর্ক যখন চরমে উঠেছে, তখন অবশেষে মুখ খুলল ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক। একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, “শুক্রবার দিল্লিতে আফগান বিদেশমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকের বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রকের কোনও হাত নেই। অন্য দেশে হলেও দূতাবাসের ভিতর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে আফগানিস্তান বা অন্যান্য দেশের।”

এই প্রথম কোনও প্রথম সারির তালিবানি নেতা ভারতে এলেন। গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে ২০২১ সালের ১৫ অগাস্ট কাবুলে ক্ষমতা দখল করেছিল তালিবান শাসক। তখন থেকেই আফগান সরকারের সঙ্গে সখ্যতা রেখেই চলেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। শুক্রবার কাবুলে আনুষ্ঠানিক ভাবে ভারতীয় দূতাবাস চালু করার কথা ঘোষণা করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, “আফগানিস্তানের তালিবান শাসনের সখ্যতার পিছনে একটাই উদ্দেশ্য – শত্রুর শত্রু, আমাদের মিত্র- এই পন্থায় পাকিস্তানকে চাপে রাখতে চাইছে ভারত।”

একদিকে তালিবানি মন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। অন্যদিকে কাবুল জানাচ্ছে, আগামীদিনে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে আরও ঘন ঘন এমন সফর দেখতে চায় তারা। ভারত সফরের তৃতীয় দিনে বার্তা দিলেন আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি।