মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমীর পুতিনের মধ্যে কোনও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত?
ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: একদিকে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা যাচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পুতিনের বৈঠক হওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। ঠিক তখনই রাশিয়ার একজন কূটনীতিক জানালেন, দুই দেশের রাষ্ট্রনেতার মধ্যে বৈঠকের পরিকল্পনা চলছে। রাশিয়ার উপ-বিদেশমন্ত্রী সার্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পুতিনের বৈঠকের তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে কোনও বাধা তিনি দেখতে পারছেন না।

রাশিয়ার এক সংবাদসংস্থা এই বৈঠক নিয়ে জানাচ্ছে, ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। আর কোনও বড় বাধা নেই এই বৈঠকে। গত বৃহস্পতিবার পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনে কথা হয়েছে। তারপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যেকার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ইউক্রেন ইস্যুতে আমেরিকা হাঙ্গেরিতে মুখোমুখি আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।
তবে বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে যে- রাশিয়া এখনই ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়নি বলেই, ট্রাম্প ও পুতিনের বৈঠক এখনই হচ্ছে না। রাশিয়ার উপবিদেশমন্ত্রী রিয়াবকভ বলেছেন, আলাস্কার বৈঠক থেকে প্রেসিডেন্ট পুতিন একটি মাপকাঠি দিয়েছিলেন। সেই মাপকাঠি পূরণ হচ্ছে কিনা সেটাই দেখার। এটা কঠিন প্রক্রিয়া মানছি। তবে সেই কাজের জন্যই কূটনীতিকেরা রয়েছেন।
আলাস্কার বৈঠকের পর পুতিন জানিয়েছিলেন, “ সংঘাত থেকে সংলাপে যাওয়ার সময় এসেছে”। বিশেষজ্ঞদের মতে রাশিয়া সেই পথে হেঁটেই আমেরিকার সঙ্গে বৈঠকে বসার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব নিচ্ছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই প্রসঙ্গে জানিয়েছে, মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো এবং রুশ বিদেশমন্ত্রী সার্গেই লাভরভের মঙ্গলবার টেলিফোনে কথা হয়। আর ঘটনাচক্রে তারপরই ওয়াশিংটনের তরফে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক সাময়িকভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে যখন পশ্চিমী দেশগুলির মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও আমেরিকার মিত্র যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং ফ্রান্স, বর্তমান সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এতে নিন্দায় সরব হয়েছে ইজরায়েল। যার প্রতিষ্ঠা ১৯৪৮ সালে লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করে এবং কয়েক দশক ধরে সংঘাতের জন্ম দেয়।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স একটি সার্ভে করেছিল। যেটির পরে রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার শেষ হওয়া ছয় দিনের জরিপে দেখা গেছে যে, ৫৯% উত্তরদাতা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতির পক্ষে। ৩৩% বিরোধিতা করেছেন। বাকিরা অনিশ্চিত ছিলেন অথবা প্রশ্নের উত্তর দেননি। তবে এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ও পুতিনের বৈঠক কি আদৌ হবে? এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এটাই।