আজব দাবি ট্রাম্পের !

“ওরা আমাকে পরবর্তী সুপ্রিম লিডার করতে চেয়েছিল। ”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : পশ্চিম এশিয়ার তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ফের বিতর্কিত মন্তব্য করে চর্চায় উঠে এলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump). এবার তাঁর দাবি, ইরান নাকি তাঁকেই দেশের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বা ‘সুপ্রিম লিডার’ হিসেবে দেখতে চেয়েছিল! যদিও এই দাবি খারিজ করেছেন বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

একটি রিপাবলিকান তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “ওরা বলছিল, আপনাকে আমরা পরবর্তী সুপ্রিম লিডার করতে চাই। আমি বলেছি, না ধন্যবাদ, আমি সেটা চাই না।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

একইসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গোপন আলোচনা চলছে। তাঁর কথায়, “ওরা চুক্তি করতে মরিয়া। তবে অভ্যন্তরীণ চাপে সেটা প্রকাশ্যে স্বীকার করছে না।” যদিও এই দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করেছে ইরান। দেশটির সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনাই হচ্ছে না এবং কোনও চুক্তির প্রশ্নই ওঠে না।”

এদিকে, যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আমেরিকা নাকি ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, হিজবুল্লার মতো গোষ্ঠীকে সমর্থন প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া। তবে তেহরান সেই প্রস্তাবও নাকচ করেছে। উল্টে তারা নিজেদের পাঁচ দফা পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে বলে খবর।

এই টানাপোড়েনের মাঝেই ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। সম্প্রতি মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই (Ali Khamenei). এরপর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেইকে (Mojtaba Khamenei) দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি এখনও জনসমক্ষে আসেননি। তাঁর আহত হওয়ার জল্পনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সবমিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট, কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনও অনিশ্চিত।