বিজেপিকে দরাজ সার্টিফিকেট দিতে রাজি নন, তবে অহেতুক বিরোধিতাও করতে চান না, জানালেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : অষ্টাদশ বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী (Naushad Siddique)। শুক্রবার স্পিকার নির্বাচন পর্বের পর বক্তব্য রাখতে উঠে তিনি দাবি করেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে, তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।
নওশাদের কথায়, “২০২১ সালে জিতে মনে হয়েছিল ছ’মাসের মধ্যে ইস্তফা দিয়ে দিই। তাতে যদি আমাদের কর্মীরা বাঁচে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাস এবং বিরোধী কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগকে সামনে রেখেই এই মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও (Mamata Banerjee) নিশানা করেন আইএসএফ বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, চিঠি লিখলেও কোনও উত্তর মিলত না।
তবে নতুন সরকারকে নিঃশর্ত সমর্থন নয়, বরং ‘গঠনমূলক সহযোগিতা’র বার্তাই দিয়েছেন নওশাদ। তাঁর বক্তব্য, বিজেপিকে তিনি “দরাজ সার্টিফিকেট” দিতে রাজি নন, কিন্তু অহেতুক বিরোধিতাও করবেন না। তিনি বলেন, “বিরোধীদের গঠনমূলক প্রস্তাবকে মূল্য দিতে হবে। আমাদের যেন কণ্ঠরোধ করা না হয়।”
আইএসএফ বিধায়ক আরও জানান, শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষেরই লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষা। তাঁর কথায়, “আমাদের স্বার্থ হবে জনগণের জন্য, নিজেদের জন্য নয়। শুধু বসে সময় কাটালে হবে না। আগামী পাঁচ বছরে বাংলার মানুষের জন্য কীভাবে কাজ করা হবে, সেটাই আসল।” পাশাপাশি তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে মানুষই বিচার করবেন কে কতটা কাজ করেছে।
এ দিন বিধানসভায় বিরোধীদের জন্য আরও বেশি পরিসরের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও (Suvendu Adhikari)। নবনিযুক্ত স্পিকারকে উদ্দেশ করে শুভেন্দু বলেন, বিরোধীদের বক্তব্য রাখার জন্য যথাযথ মর্যাদা ও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, সরকার চায় বিধানসভায় গঠনমূলক আলোচনা হোক এবং সব পক্ষ মিলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখুক।
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। যাতে মানুষ নিজেরাই দেখতে পারেন তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কীভাবে কাজ করছেন। বিধানসভার গরিমা বজায় রাখা এবং সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার উপরও এ দিন বিশেষ জোর দেন শুভেন্দু।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রথম অধিবেশনেই শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষের তরফে ‘গঠনমূলক রাজনীতি’র বার্তা উঠে আসা তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও বাস্তবে সেই সৌজন্যের পরিবেশ কত দিন বজায় থাকে, এখন সেটাই দেখার।