আমেরিকাকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের!

‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ চললে এক ফোঁটা তেলও রফতানি নয়’, আমেরিকাকে হুমকি ইরানের

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র হলে বিশ্ববাজারে তেলের জোগানেও প্রভাব পড়তে পারে—এমনই হুঁশিয়ারি দিল ইরান। ওয়াশিংটনের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালী তো বটেই, পারস্য উপসাগরের অন্য কোনও পথ দিয়েও এক ফোঁটা তেল রফতানি করা হবে না বলে জানাল তেহরান। একই সঙ্গে আমেরিকার অর্থনৈতিক অভিযানে যে দেশই সমর্থন করবে, তাদের ‘যুদ্ধের অংশীদার’ হিসেবে দেখা হবে বলেও সতর্ক করেছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই।

সোমবার সমাজমাধ্যমে রেজাই লেখেন, ‘‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলতে থাকলে এক ফোঁটা তেলও রফতানি হবে না। হরমুজ প্রণালী দিয়েও নয়, পারস্য উপসাগরের অন্য কোনও জায়গা দিয়েও নয়।’’ তাঁর হুঁশিয়ারি, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার অর্থনৈতিক অভিযানে কোনও দেশ অংশ নিলে বা তাকে সমর্থন করলে তেহরান সেটিকে ‘যুদ্ধের কাজ’ হিসাবেই দেখবে।

ইরানের এই হুঁশিয়ারির নেপথ্যে রয়েছে ওয়াশিংটনের নতুন করে কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকি। রবিবার ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফও আমেরিকার নীতিকে কটাক্ষ করেন। ব্যঙ্গাত্মক একটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত তা প্রয়োগকারীর দিকেই ‘বুমেরাং’ হয়ে ফিরে আসতে পারে।

ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডসের মুখপাত্র সারদার মোহেবি আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক যুদ্ধের উপর আমেরিকার নির্ভরতা আসলে সামরিক ক্ষেত্রে তাদের ‘পরাজয়ের’ স্বীকারোক্তি। তাঁর দাবি, কয়েক দশক ধরেই ইরান নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে এবং নতুন চাপও সামলে নেওয়ার ক্ষমতা তেহরানের রয়েছে।

ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকির সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞা ইরানের কাছে নতুন কিছু নয়। প্রায় দু’দশক ধরে দেশটি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে।

এর আগে হরমুজ প্রণালী ঘিরে আমেরিকা ও ইরানের পদক্ষেপে উত্তেজনা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তেহরানের তেল রফতানি বন্ধের হুমকি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ এবং দামে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রবল।