প্রার্থী লায়েক আলি দাবি করেছেন—”আমরা দখলের রাজনীতি করি না”—এটি মূলত নিজেদের একটি মার্জিত ও গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : বারুইপুর পশ্চিমের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ১৯৮৩ সাল থেকে চলে আসা সিপিআইএম-এর সেই পুরনো পার্টি অফিসটি, যা ২০১৩ সালে তৃণমূলের দখলে গিয়েছিল, ২০২৬-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে তা আবার পুনরুদ্ধার করা হল, যা নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
১৯৮৩ সাল থেকে থাকা এই অফিসটি বারুইপুর পশ্চিমে বামপন্থীদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল। দীর্ঘ ১৩ বছর পর তা পুনরায় নিজেদের অধীনে আনা কর্মীদের জন্য মানসিকভাবে বড় জয়।
সিপিআইএম-এর অবস্থান: প্রার্থী লায়েক আলি দাবি করেছেন—”আমরা দখলের রাজনীতি করি না”—এটি মূলত নিজেদের একটি মার্জিত ও গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা। তৃণমূলের নথিপত্র ও পতাকা গুছিয়ে রেখে তাদের খবর দেওয়ার বিষয়টি সৌজন্য বোধের পরিচয় হিসেবেই তারা দেখাতে চাইছে।
বিজেপি বনাম সিপিআইএম: যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি সরাসরি তৃণমূলের অফিস দখল করছে বলে অভিযোগ উঠছে, সেখানে সিপিআইএম নিজেদের হারানো জমি বা অফিস ফিরে পাওয়াকে ‘অধিকার পুনরুদ্ধার’ হিসেবে দেখছে।
অফিসটি বারুইপুর পশ্চিম, কাছারি বাজার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। ১৯৮৩ সাল থেকেই সিপিআইএম-এর অফিস ছিল। ২০১৩-তে সেই অফিস দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২৬ সালে অফিসটিকে পুনরুদ্ধার করেছে সিপিআইএম এবং দলীয় ব্যানারও লাগিয়েছে। নথিপত্র ফেরত দেওয়ার জন্য তৃণমূলকে আহ্বান জানিয়েছে সিপিআইএম।
রাজনৈতিক পালাবদলের সময় পার্টি অফিস দখলের সংস্কৃতি বাংলায় নতুন নয়। তবে বারুইপুরের এই ঘটনায় ‘দখল’ বনাম ‘পুনরুদ্ধার’-এর যে লড়াই দেখা যাচ্ছে, তা আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে বামপন্থীদের পুনরুত্থানের চেষ্টাকে কতটা গতি জোগায়, সেটাই এখন দেখার।