বুঝে শুনে নোটিস, ঠকে শিখল ইডি !

আদালতে একের পর এক প্রশ্ন, তলবের নোটিস নিয়ে ধাক্কা, দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে সমালোচনা। এই আবহেই পাঁচ রাজ্যে ভোটের আগে বড় সিদ্ধান্ত ইডির।

সূচনা পল্য়ে, সাংবাদিক : এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট অর্থাৎ ইডি। গত কয়েক বছর ধরে এই নাম ঘিরেই রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। বিরোধীদের অভিযোগ কেন্দ্র সরকার ইডিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। আদালতে একের পর এক প্রশ্ন, তলবের নোটিস নিয়ে ধাক্কা, দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে সমালোচনা। এই আবহেই পাঁচ রাজ্যে ভোটের আগে বড় সিদ্ধান্ত ইডির। এবার অফিসারদের স্পষ্ট নির্দেশ- জিজ্ঞাসাবাদের নোটিস পাঠানোর আগে সবদিক ভেবে, প্রমাণ খতিয়ে দেখে তবেই পদক্ষেপ নিতে হবে। গুয়াহাটিতে ত্রৈমাসিক সম্মেলনে ইডির প্রধান রাহুল নবীন এই নির্দেশ জারি করেছেন। প্রশ্ন উঠছে- এ কি ইমেজ ম্যানেজমেন্ট? নাকি আইনি চাপে কৌশল বদল?

কেন এই সতর্কবার্তা?

গত কয়েক বছরে ইডির তলবের নোটিস নিয়ে একাধিক মামলা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আদালত প্রশ্ন তুলেছে- নোটিসের যথার্থতা, তদন্তের অগ্রগতি, দীর্ঘদিন চার্জশিট না দেওয়া নিয়ে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ- ভোটের আগে ইডির সক্রিয়তা হঠাৎ বেড়ে যায়। এই প্রেক্ষিতেই ত্রৈমাসিক সম্মেলনে আধিকারিকদের বলা হয়েছেগ ভেবেচিন্তে, আইনি ভিত্তি শক্ত করে তবেই নোটিস পাঠান।

গুয়াহাটির সম্মেলনে কী নির্দেশ?

গুয়াহাটিতে আয়োজিত ইডির ত্রৈমাসিক বৈঠকে দুটি বড় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে-

১. নোটিস পাঠানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা

যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ ছাড়া তলব নয়। যাতে আদালতে গিয়ে ধাক্কা না খেতে হয়।

২️. তদন্তে সময়সীমা

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মোট ৫০০টি তদন্তাধীন কেস নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। নতুন কেস- ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য। স্পষ্ট বার্তা- দীর্ঘসূত্রিতা চলবে না।

ইমেজ সংকট স্বীকার?

সম্মেলনে স্বীকার করা হয়েছে- দীর্ঘদিন ধরে মামলা ঝুলে থাকা সংস্থার ইমেজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক হেভিওয়েট নেতা দীর্ঘ তদন্তের সুযোগে জামিন পেয়েছেন। আদালতও প্রশ্ন তুলেছে- তদন্ত শেষ করতে এত দেরি কেন? এই বিষয়টিই ইডির জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ

ইডির অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট অনুযায়ী- স্থানীয় পুলিশের অসহযোগিতা, আধিকারিকের অভাব, পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা- এই কারণগুলো তদন্তের গতি কমিয়ে দেয়। সূত্রের খবর- কিছু মাস আগে ডিপার্টমেন্টাল সার্কুলারে বলা হয়েছিল, ইডি ডিরেক্টরের অনুমতি ছাড়া কোনও আইনজীবীকে তলব করা যাবে না। অর্থাৎ সংস্থা ধীরে ধীরে প্রক্রিয়াগত কড়াকড়ি বাড়াচ্ছে।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

পাঁচ রাজ্যে ভোটের আগে এই নির্দেশের রাজনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। বিরোধীরা বরাবর অভিযোগ করেছে- ইডি ও সিবিআই কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে থেকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার হয়। এই নির্দেশকে কেউ বলছেন- আইনি সতর্কতা, ভাবমূর্তি রক্ষা, ভোটের আগে বিতর্ক এড়ানো আবার কেউ বলছেন- এটি আদালতের চাপের ফল।

আইনি দৃষ্টিকোণ

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে- যে কোনও তদন্তকারী সংস্থার জন্য দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ- প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, সময়মতো তদন্ত সম্পূর্ণ করা অন্যথায় আদালতে মামলা দুর্বল হয়ে পড়ে।

ইডির এই নতুন নির্দেশ দুটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে- এক, আদালতের পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুই, সংস্থার ইমেজ পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে- ভোটের আগে কি সত্যিই ইডির পদক্ষেপ বদলাবে? নাকি বিতর্ক চলতেই থাকবে? সময়ই তার উত্তর দেবে।