সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে কৃষক সংগঠনগুলোকে এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে অভিজিৎ টার্গেট করেন প্রধানমন্ত্রী মোদীকে। নিট পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি তো এতদিন ছিলই, কী এমন হল যে দেশের প্রধানমন্ত্রীকেও বিঁধতে ছাড়ল না ককরোচ জনতা পার্টি?

নিট পরীক্ষা প্রশ্ন ফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগে শনিবার থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। সোমবারও সেখানে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যরা। শনিবার বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত এই কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও রবিবারের পর সোমবারও পুরোদমে সিজেপির কর্মসূচি আয়োজিত হয় যন্তর মন্তর চত্ত্বরে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে কৃষক সংগঠনগুলোকে এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর আশা দিন যত বাড়বে ততই তাঁদের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা আরও বাড়বে।
২১ জুন রবিবার ছিল রি-নিট পরীক্ষা দিন। পুনরায় নিট পরীক্ষা নেওয়া হলেও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে সরেনি সিজেপি। আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগ দাবি করেন অভিজিৎ দীপকে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ কেন চাইলেন তিনি?
৩ মে নিট পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসে প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী ভুক্তভোগী হয়েছেন। পাশাপাশি CUBT, CBSE সহ বেশ কিছু পরীক্ষাতেও প্রশ্ন ফাঁসে প্রায় ১ কোটি পরীক্ষার্থী অসহায়তার মধ্যে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মূলত নিট পরীক্ষা নিয়ে প্রথম থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি করে আসছে সিজেপি। যদি তিনি পদত্যাগ না করেন বা তাঁর পদত্যাগ পত্র না গৃহীত হয় তবে তার দায় বর্তাবে প্রধানমন্ত্রীর উপর, এমনই দাবি ককরোচ জনতা পার্টির। আর এই ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না করলে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর আরও বার্তা, প্রধানমন্ত্রীকে অনেক সময়ই বলতে শোনা যায়, তিনি ছোট বেলায় একজন চাওয়ালা ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী কি চান দেশের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরাও চা বিক্রি করুন?এর আগে দিপকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে বলেছিলেন যে, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ থেকে না সরালে তিনি ইতিহাসের সবচেয়ে অযোগ্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত হবেন।
দেশে যখনই মহিলার উপর কোনও অপরাধ ঘটে, প্রধানমন্ত্রী বলেন তিনি ভিক্টিম, যুবদের সঙ্গে কোনও অন্যায় হয় প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন তিনিই ভিক্টিম। এই জায়গাতেই কিছুটা কটাক্ষের সুরে অভিজিৎ-র দাবি এবার তো সাধারণ মানুষকে ভুক্তভোগী হতে দিন। গত বারো বছরে দেশ শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনেছে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলেও বড় দাবি করেছেন অভিজিৎ দীপকে।
অন্যদিকে, প্রশ্নফাঁসের বিতর্ক পিছনে ফেলে রবিবার দেশজুড়ে ৫৫১টি শহরের ৫,৪৪০টি কেন্দ্রে আয়োজিত হয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা নিট ইউজি–এর রি–টেস্ট। প্রায় দেড় লক্ষ সিসিটিভির নজরদারি এবং ৫১ হাজার জ্যামারের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে পরীক্ষা দিলেন প্রায় ২৩ লক্ষ পড়ুয়া। দুপুর ২টো থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫.১৫–এ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে পরীক্ষার্থীদের অনেকেরই বক্তব্য, ফিজিক্স এবং কেমিস্ট্রির প্রশ্নপত্র ৩ মে–র পরীক্ষার থেকে কঠিন হয়েছে আর বায়োলজির প্রশ্নের উত্তর বের করতে সময় লেগেছে বেশি।
দেশজুড়ে রি–নিট মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হলেও বেশ কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্ত ঘটনার খবর মিলেছে। দিল্লি, মুম্বই এবং বেঙ্গালুরুতে যানজটের কারণে একাধিক পড়ুয়ার পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে দেরি হয়। তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। অভিভাবকদের দাবি, দেড়টার সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে দু’টোয় পরীক্ষা শুরুর আগে পৌঁছেও পরীক্ষা দিতে পারেননি অনেকেই। মধ্যপ্রদেশের ভোপালেও দু’জন পরীক্ষা দিতে পারেননি।
বিতর্ক হয়েছে বোরখা নিয়েও। রাজস্থানের অজমেরে এক ছাত্রীর দাবি, রবিবার বোরখা পরে যাওয়ার জন্য তাঁকে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, অথচ ৩ মে–র নিট পরীক্ষায় একই পোশাকে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল। এনটিএ-র গাইডলাইন অনুযায়ী অবশ্য ধর্মীয় কোনও পোশাক বা চিহ্ন পরিধানে নিষেধাজ্ঞা নেই। পরে অবশ্য এনটিএ বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করলে ছাত্রীটি পরীক্ষা দিতে পেরেছেন। গুজরাতে পৈতে বা অন্যান্য ধর্মীয় চিহ্ন পরিধান করে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকা নিয়ে অল্পবিস্তর কথা কাটাকাটি, অশান্তির খবর মিলেছে।
এর মধ্যেই অজমেরের একটি কলেজের ছাত্রনেতা কৃষ্ণ সিং ঠাকুর প্রশ্নফাঁস নিয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন। কৃষ্ণের দাবি, শনিবার অর্থাৎ রি–নিটের আগের দিন তাঁর কলেজের কয়েকজন পড়ুয়ার কাছে একটি ভিডিয়ো কল আসে। সেখানে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি একটি প্রশ্নপত্রের ছবি দেখিয়ে দাবি করেন, সেটা রি–নিটের প্রশ্নপত্র, যা মিলবে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে। কৃষ্ণের দাবি, তিনি নিজে সেই নম্বরে কলব্যাক করে প্রশ্ন কেনার ইচ্ছে প্রকাশ করেন, তাঁকে পাঠানো হয় একটি কিউআর কোড। এই ফোনকলের রেকর্ডিং–সহ সব তথ্যপ্রমাণ পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন কৃষ্ণ। অভিযুক্তের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।