সংবিধান দিবসে একমঞ্চে মোদী-রাহুল!

সংবিধান দিবসে দ্বন্দ্ব ভুলে মিলে গেল শাসক-বিরোধী রাজনীতি। একইমঞ্চে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক :  ২৫ নভেম্বর সংবিধান দিবস অর্থাৎ সংবিধান স্রষ্টা বাবাসাহেব অম্বেডকরের জন্মবার্ষিকী। সংবিধান দিবসের পুরনো সংসদের সেন্ট্রাল হলে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সহ একাধিক শীর্ষ নেতাদের  দেখা গিয়েছে একই মঞ্চে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাও উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মঞ্চে তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার স্পিকার সিপি রাধাকৃষ্ণন, লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাজ্যসভার শাসকদলের নেতা জেপি নাড্ডা, রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হরিবংশ রায় এবং সংসদীয় কার্যমন্ত্রী কিরেন রিজিজুকেও একমঞ্চে দেখা গিয়েছে পুরনো সংসদ ভবনের ওই অনুষ্ঠানে। বর্তমানে পুরনো সংসদ ভবনকে সংবিধান সদন হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে।

দুদিন আগে অর্থাৎ সোমবার একটি সরকারি অনুষ্ঠানে না থাকার জন্য রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেছিল বিজেপি। ২৪ নভেম্বর সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি সূর্যকান্ত ভারতের ৫৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথগ্রহণ করেছেন। সিজেআই-এর শপথগ্রহণে হাজির না থাকার কারণে রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেছিল বিজেপি। বিজেপি অভিযোগ তুলেছিল রাহুল গান্ধী ওই অনুষ্ঠানে সামিল না থেকে ডাঃ বি আর অম্বেদকর এবং সংবিধানের অপমান করেছে। তার ২দিন পর সংবিধান দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে দুজনেই। অনুষ্ঠানে সংবিধানের গুরুত্ব এবং বিআর অম্বেদকরের আদর্শ নিয়ে চলার সংকল্প করলেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা শাসক-বিরোধী দলের নেতারা। তাঁরা বলেন, “সংবিধান হল ভারতীয় গণতন্ত্রের  ভিত। এর  মূল্যবোধকে বজায় রাখাটা সকলের কর্তব্য।“

 ২০৪৭ পর্যন্ত ভারতকে বিকসিত রাষ্ট্র তৈরির লক্ষ্য নেওয়ার ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হয় সংবিধান দিবসের এই অনুষ্ঠানে।

সংবিধান দিবসের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, “আমাদের সংবিধান আমাদের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের স্বীকৃতি। এটি ওপনিবেশিক পরিচয় ত্যাগ করে আমাদের জাতীয়তাবাদী চেতনা নিয়ে এগিয়ে চলার শিক্ষা দেয়। শাস্তি করলে তার ন্যায়বিচারের ভাবনার উপর ভিত্তি করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এবং অনেক প্রগতিশীল পদক্ষেপ করার জন্য সংসদ ভবনের সদস্যদের ধন্যবাদ। “

অনুষ্ঠান মঞ্চে মালায়াম, মারাঠী, নেপালি, পাঞ্জাবি, বোরো, কাশ্মিরী, তেলেগু, ওড়িশা, অসমিয়ার পাশাপাশি ৯টি ভাষায় সংবিধানের অনুবাদ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।