তৃণমূলের হাত থেকে বাংলার রাশ যেতেই কংগ্রেসে ফিরতে শুরু করেছেন পুরনো থেকে নতুন কর্মীরা।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হতেই ঘর গোছাতে শুরু করে দিয়েছে কংগ্রেস। কথায় আছে না কারো পৌষ মাস তো কারো সর্বনাশ। ঘাসফুলের অন্দরে এখন ভাঙনের থাবা। দলের অন্দরে বিদ্রোহী বিধায়ক, সাংসদদের কারণে খান খান তৃণমূল। খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো কে নিয়েই জল্পনা তুঙ্গে। শোনা গেছে তৃণমূল ও কংগ্রেস আবারও এক হয়ে যেতে পারে। আর তাই কি তৃণমূলের নিচু তলার কর্মীরাও ঠাঁই খুঁজছেন ? আর সেই সুযোগই কি কাজে লাগাচ্ছে কংগ্রেস? তবে কি বাংলায় এবার বিজেপি বনাম কংগ্রেসের লড়াই? দলের কর্মী সমর্থকদের জন্য দরজা খুললেও তৃণমূল সুপ্রিমো থেকে দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়ছেন না অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, “আইন মেনে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা উচিৎ, তবে সেটা কখনই বদলা নেওয়ার জন্য নয়।” একইসঙ্গে তাঁর খোঁচা, “শাসক থাকাকালীন প্রচুর অর্থভান্ডার করেছে তৃণমূল। চল্লিশ চোরের ওই অর্থ ভান্ডারের রক্ষা কে করবে ?”
রাজ্যের ক্ষমতা থেকে সরতেই তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক বিভিন্ন জেলায়। সেই তালিকায় রয়েছে মুর্শিদাবাদ, মালদা, উঃ ২৪ পরগনা, নদিয়া সহ একাধিক জেলা। তৃণমূলের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও মন্ত্রী-কাউন্সিলরাও পদত্যাগ করছেন দলে দলে। বাদ যাচ্ছে না ঘাসফুল শিবিরের নিচু তলার কর্মীরা। রীতিমতো যোগদান পর্বের অনুষ্ঠান চলছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তৃণমূল থেকে কংগ্রেসে যাওয়ার প্রবণতা সবথেকে বেশি। এই যেমন স্বরূপনগর বিধানসভা কেন্দ্রের স্বরূপনগর ২নং ব্লক সভাপতি কার্তিক হালদারের উদ্যোগে ডাকবাংলা দলীয় কার্যালয়ে এক যোগদান পর্ব অনুষ্ঠান হয়ে গেল |এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার জাতীয় কংগ্রেসের দলীয় সভানেত্রী ইন্দ্রানী দত্ত চ্যাটার্জী সহ স্থানীয় নেতৃত্ব | সভানেত্রীর হাত ধরে বিথারী শাড়াপুল গোবিন্দপুর জিপি এলাকা থেকে শতাধিক তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা জাতীয় কংগ্রেসের দলীয় পতাকা হাতে তুলে নিলেন ।
একসময় তৃণমূল ও কংগ্রেস হাতে হাত রেখে চলতো। তৃণমূল বাংলার মসনদ দখল করতেই দুই দলের মধ্যে তিক্ততা বাড়ে। খোদ তৃণণূল সুপ্রিমো কংগ্রেসকে সাইবোর্ডে পরিণত হওয়া দল বলে কটাক্ষ করতেন। আর সেই কংগ্রেসেই এখন পৌষ মাস। তৃণমূলের হাত থেকে বাংলার রাশ যেতেই কংগ্রেসে ফিরতে শুরু করেছেন পুরনো থেকে নতুন কর্মীরা। তাই বাংলায় তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে হাত শিবির। এই তো সেদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর সোনাখালিতে তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন। প্রায় দেড়শো তৃণমূল কর্মী-সমর্থক দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন। সোনাখালিতে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে কংগ্রেস নেতৃত্বের উপস্থিতিতে তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। দলত্যাগীদের দাবি, রাজ্যে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের অস্তিত্বই ঘোরতর সঙ্কটে। এই অবস্থায় এলাকায় থমকে যাওয়া উন্নয়নে গতি আনতেই তাঁরা কংগ্রেসের হাত ধরেছেন। অন্যদিকে এই দলবদলকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, তৃণমূল ছেড়ে মানুষের এই যোগদান আগামী দিনে এলাকায় কংগ্রেসের হাতকে আরও শক্তিশালী করবে। তাঁদের মতে, রাজ্যের যে রাজনৈতিক অবস্থা রয়েছে তাতে দিনে দিনে মানুষের কাছে কংগ্রেস আবার নতুন করে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। কিন্তু সত্যিই কি এভাবে তৃণমূল কর্মী সমর্থক ও নেতারা যোগদান করলে রাজ্য রাজনীতিতে কংগ্রসের হারানো জমি পুনরুদ্ধার হতে পারে। বামেরাও এই আবহে ঘর গোছাচ্ছে। বাম নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ভাঙনই প্রমাণ করছে যে রাজ্যে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। ২৩ ও ২৪ জুন সিপিএম রাজ্য কমিটির বৈঠক। দু’দিনের বৈঠকে দলের কাজের অগ্রগতি ও ভবিষ্যত কৌশল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হবে। বিজেপি বিরোধী শিবিরের ঘরে ঘরে কীভাবে পৌঁছে যাওয়া যায় তা নিয়েও আলোচনা হবে। অন্যদিকে, ছুঁতমার্গ না রেখেই দলে তৃণণূল কর্মীদের যোগদান করাচ্ছে কংগ্রেস। আগামী মাসে রাহুল গান্ধীকে কলকাতায় এনে যোগদানের তীব্রতা বাড়তে প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব।