দিল্লির লালকেল্লা সামনে বিস্ফোরণ। বজবজে নাকা চেকিংয়ে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করল ডায়মন্ডহারবার পুলিশ। গ্রেফতার ১।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: দিল্লিতে লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের ঘটনার পর গোটা দেশজুড়ে জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট। রাজ্যের বিভিন্ন পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে শুরু করা হয়েছে নাকা চেকিং। আর এই নাকা চেকিংয়ে মিলল সাফল্য। সাফল্য পেল ডায়মন্ড হারবার পুলিশ। বজবজ এলাকায় ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে নাকা চেকিংয়ের সময়ে উদ্ধার হল বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র। ঘটনায় একজনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। গভীর রাতে তল্লাশি চালিয়ে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম মৌনফ পার্সে ওরফে বাবু। সে বিহারের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। কর্মসূত্রে মৌনফ পার্সে বজবজ এলাকাতেই থাকত বলে খবর। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহারের বাসিন্দা কর্মসূত্রে বজবজ এলাকায় থাকত। বিহার থেকে এই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসা হচ্ছিল ওই এলাকায়। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়েই আমরা অভিযান চালাই। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করা হবে। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে আরও জেরা করা হবে।

পুলিশ তদন্ত করে দেখছে—কোথা থেকে আগ্নেয়াস্ত্রগুলি এসেছে, কার কাছে পৌঁছনোর কথা ছিল এবং অভিযুক্ত এই চক্রের সঙ্গে কতদিন ধরে জড়িত। ধৃত ব্যক্তি কি শুধুই অস্ত্র পাচারে সাহায্য করছিল ? নাকি বড় কোনও নেটওয়ার্কের সক্রিয় সদস্য? সেই দিকেও নজর রাখছে জেলা পুলিশ। নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এর মধ্যেই গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায়, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কেউ এলাকা পেরোতে পারে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বজবজ থানা এলাকায় বিশেষ নাকা চেকিং শুরু হয়। তল্লাশিতে উদ্ধার হয় একটি নাইন এমএম পিস্তল, দুটি ওয়ান-শাটার বন্দুক এবং বেশ কয়েক রাউন্ড কার্তুজ।
১০ নভেম্বরের সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় ইতিমধ্যে ১৫জন প্রাণ হারিয়েছেন। বিস্ফোরণ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, “লালকেল্লার কাছে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে জঘন্য সন্ত্রাসবাদী হামলা ঘটিয়েছে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সন্ত্রাসবাদের সমস্ত রূপ এবং অভিব্যক্তির প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সেক্ষেত্রে ভারত সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।“
এদিকে নর্দার্ন জোনাল কাউন্সিলের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে বলেছেন, “দিল্লির বিস্ফোরণে জড়িতদের কাউকেই ছাড়া যাবে না। কেউ পাতালে গিয়ে লুকিয়ে থাকলেও তাকে বের করে এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। সেই শাস্তি একটাই কঠোর হবে যে ভবিষ্যতে কেউ দ্বিতীয়বার নিরীহ মানুষজনকে খুন করার সাহস পাবেন না।“
এরইমধ্যে আবার দিল্লি বিস্ফোরণে যুক্ত জঙ্গিদের সঙ্গে যোগ মিলেছে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হুগলি জেলার পাশাপাশি এবার যোগ মিলেছে নদিয়া জেলায়। নদিয়ার পলাশীপাড়া থানার অন্তর্গত বড় নলদহ এলাকার বাসিন্দা সাবির আহমেদ তিন বছর আগে মাদকবিরোধী আইনে গ্রেফতার হন। বর্তমানে প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি। গোয়েন্দারা দাবি করেছেন, দিল্লি বিস্ফোরণ-কাণ্ডের মূল চক্রের একাংশের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।