যন্তরমন্তরে বলপ্রয়োগের কথা অস্বীকার দিল্লি পুলিশের

‘একপেশে ছবি দেখানো হচ্ছে’, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে দাবি দিল্লি পুলিশের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : যন্তরমন্তরে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশি পদক্ষেপের অভিযোগকে ‘একপেশে ছবি’ বলে দাবি করল দিল্লি পুলিশ। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া ৯৭ পাতার পাল্টা হলফনামায় দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার মৌলিক হলেও ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভ এক সময় হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ‘ন্যূনতম প্রয়োজনীয় শক্তি’ প্রয়োগ করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ‘চলো সংসদ’ মিছিল ঘিরে এই মামলায় পুলিশের দাবি, প্রায় ৩০ হাজার বিক্ষোভকারী জমায়েত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে সমাজবিরোধীরাও ছিল। ব্যারিকেড ভাঙা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এবং পুলিশকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগও তুলেছে দিল্লি পুলিশ। রেল ভবন, সংসদ মার্গ, কনট প্লেস, জনপথ, টলস্টয় মার্গ এবং গোল মার্কেট এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, লাউডস্পিকারে বার বার সতর্ক করার পরেও বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যান। কয়েকটি ভিডিয়োর উল্লেখ করে পুলিশের বক্তব্য, একাধিক জায়গায় একা পুলিশকর্মীদের ঘিরে ধরে পাথর, লাঠি দিয়ে হামলা করা হয়েছে। তাঁদের হেলমেট ও সুরক্ষা সরঞ্জাম খুলে নেওয়া এবং টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি পুলিশের।

এই সংঘর্ষে ২৪০-র বেশি পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলেও আদালতে জানিয়েছে পুলিশ। লাঠি ব্যবহারকে ‘অনুমোদিত এবং গ্রহণযোগ্য সহায়ক সরঞ্জাম’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের তাৎক্ষণিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, পরে নির্বাচিত ভিডিয়ো বা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শুধু সেই সিদ্ধান্তের বিচার করা ঠিক নয়।

বিক্ষোভ চলাকালীন মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগ নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ। তাদের দাবি, অপরাধমূলক অতীত রয়েছে এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্যই প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০ থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে ২,৮৭৩ জনের মুখের সঙ্গে অপরাধের রেকর্ডের মিল পাওয়া যায় বলে দাবি। তাঁদের মধ্যে ৯২ জনের বিরুদ্ধে ১০টির বেশি মামলা এবং ৪৭ জনের ‘হিস্ট্রি-শিট’ রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এ ছাড়া ছ’দিনের বিক্ষোভে ৪,৬০০-র বেশি মহিলা পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল বলে হলফনামায় জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তাদের বক্তব্য, মহিলা বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা।

NEET-এ অনিয়মের অভিযোগ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধমেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। সেই কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশি ‘দমন’-এর অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে তদন্তের আর্জি জানানো হয়েছিল।