মোদীর ‘সংযমী’ বার্তার সমালোচনায় বিরোধীরা

“মোদীজি গতকাল সাধারণ মানুষের কাছে ত্যাগের আর্জি জানিয়েছেন— এগুলো পরামর্শ নয়, ব্যর্থতার প্রমাণ।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডার রক্ষায় দেশবাসীকে সংযমী হওয়ার আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। পেট্রল-ডিজ়েল, রান্নার গ্যাস, ভোজ্য তেল, সোনা এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি বিদেশভ্রমণ এড়িয়ে চলা ও ফের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এ জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলগুলি একযোগে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে।

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে সরাসরি কেন্দ্রের ‘ব্যর্থতার প্রমাণ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “মোদীজি গতকাল সাধারণ মানুষের কাছে ত্যাগের আর্জি জানিয়েছেন— সোনা কিনবেন না, বিদেশভ্রমণ করবেন না, পেট্রল কম খরচ করুন, সার ও রান্নার তেলের ব্যবহার কমান, মেট্রোয় যাতায়াত করুন এবং বাড়ি থেকে কাজ করুন। এগুলো কোনও পরামর্শ নয়, এগুলো ব্যর্থতার প্রমাণ।”

রাহুলের অভিযোগ, গত ১২ বছরে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে যে এখন মানুষকে বলে দিতে হচ্ছে কী কিনতে হবে আর কী কিনতে হবে না। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্র নিজেদের দায় এড়িয়ে সাধারণ মানুষের উপরই সমস্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। কংগ্রেসের দাবি, সরকারের নীতিগত ব্যর্থতার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কটাক্ষের সুরে তিনি লেখেন, “ভোট শেষ হতেই সঙ্কটের কথা মনে পড়ে গেল!” নির্বাচনী প্রচারের সময় বিজেপি নেতাদের ব্যাপক বিমানযাত্রা ও প্রচারাভিযানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, তখন কেন সংযমের বার্তা দেওয়া হয়নি ? অখিলেশের দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য এক ধরনের নিয়ম আর রাজনৈতিক নেতাদের জন্য অন্য নিয়ম চলতে পারে না।

অখিলেশ আরও বলেন, বিজেপি নেতারা নির্বাচনী প্রচারে হাজার হাজার চার্টার্ড বিমানে ভ্রমণ করেছেন, বিলাসবহুল হোটেলে থেকেছেন এবং বড় বড় সভা করেছেন। তা হলে এখন কেন সাধারণ মানুষকে পেট্রল বাঁচানো, অনলাইন বৈঠক করা বা বিদেশভ্রমণ বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে? তাঁর প্রশ্ন, বিজেপি নেতারা নিজেরা কেন পুরো প্রচার ভার্চুয়াল মাধ্যমে সারেননি?

প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনায় সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বামেরা। বিরোধীদের দাবি, মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়েই এখন কেন্দ্র সাধারণ মানুষের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। যদিও বিজেপির বক্তব্য, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া সঙ্কট মোকাবিলায় জাতীয় স্বার্থে সকলের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।