খাড়গের নেতৃত্বে বৈঠকে বিরোধীরা

এসআইআর-সহ নির্বাচন কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আরও সুর চড়াল বিরোধী শিবির। বুধবার দিল্লিতে বিরোধী সাংসদদের নিয়ে বৈঠকে বসলেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। সূত্রের খবর, এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত বৈঠকের দাবিতে একটি চিঠির খসড়া তৈরি করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

কেন্দ্রীয় দিল্লির একটি রেস্তরাঁয় আয়োজিত বৈঠকে কংগ্রেস, আরজেডি-সহ বিরোধী দলের একাধিক সাংসদ যোগ দেন। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চলতে থাকা আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে যোগ দিতে এসে আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা বলেন, ‘‘লাঞ্চ হবে, হয়তো লঞ্চও হবে।’’ তাঁর মন্তব্যে বৈঠকের পাশাপাশি বিরোধীদের পরবর্তী আন্দোলনের ইঙ্গিতও মেলে।

কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদম্বরমের দাবি, মঙ্গলবারের ঘটনার পর বিরোধীদের বার্তা আরও জোরালো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী যে ভাবে বিষয়টি সামনে এনেছেন, তাতে দেশবাসীর নজর কেড়েছে বিরোধীদের আন্দোলন।

আরজেডি সাংসদ সুধাকর সিং আরও আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, বিরোধীরা যখন সরাসরি আন্দোলনের পথে নেমেছে, তখন কূটনীতির জায়গা কোথায়? তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ভোট ‘চুরি’ হয়েছে এবং গণতন্ত্র ও সংবিধানকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফাই এখন ন্যূনতম দাবি।

কংগ্রেস সাংসদ জেবি ম্যাথার অভিযোগ করেন, বিরোধীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের উপর পুলিশ যে ভাবে বলপ্রয়োগ করেছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। তাঁর দাবি, রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা-সহ বিরোধী নেতাদের গ্রেফতার বা এফআইআর করে আন্দোলন থামানো যাবে না।

কংগ্রেস সাংসদ উজ্জ্বল রমন সিংয়ের বক্তব্য, বিরোধী দল হিসেবে মানুষের উদ্বেগ সংসদে তুলে ধরাই তাঁদের দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। কিন্তু কমিশন আলোচনায় বসতে চাইছে না বলেই অভিযোগ তাঁর।

মঙ্গলবার দিনভর বিক্ষোভের পর রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী সাংসদদের আটক করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পরই জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র করার বার্তা দিয়েছে বিরোধীরা।