বাসি-পচা খাবার বিক্রির অভিযোগে হোটেল বন্ধের নির্দেশ নবদ্বীপে

হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খাবারের গুণগত মান এবং পরিচ্ছন্নতা নিয়ে একাধিক অভিযোগের মধ্যেই নবদ্বীপে বিশেষ অভিযানে নামল ফুড সেফটি দপ্তর। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের বিভিন্ন হোটেল ও খাবারের দোকানে হানা দিয়ে পচা খাবার, মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী এবং পোড়া তেলের সন্ধান পেলেন আধিকারিকরা। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের রান্নাঘরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশও নজরে আসে। একাধিক গাফিলতির অভিযোগে দুটি প্রতিষ্ঠানকে সাত দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ ধরানো হয়েছে।

বিশ্বজিত দেবনাথ, নিজস্ব সংবাদদাতা

মঙ্গলবার বেলা আনুমানিক ১২টা নাগাদ মণিপুর মোড় এলাকার একটি হোটেল থেকে অভিযান শুরু হয়। সেখানে একাধিক অসঙ্গতি নজরে আসায় কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর পার্শ্ববর্তী এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে রান্নাঘরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ-সহ একাধিক সমস্যা দেখতে পান আধিকারিকরা। সেখানে পচা খাবার ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ওই রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশের আরও একটি খাবারের দোকানেও অনিয়ম ধরা পড়ায় নোটিশ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে মণিপুর এলাকার অন্য একটি হোটেলে অভিযান চালিয়েও একাধিক গাফিলতি সামনে আসে। সেখানেও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযান শেষে ফুড সেফটি দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, এদিন মোট চার থেকে পাঁচটি হোটেল ও খাবারের দোকানে অভিযান চালানো হয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের রান্নাঘরের অবস্থা অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন ছিল। কোথাও পচা খাবার, মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী এবং পোড়া তেল পাওয়া গিয়েছে। ওই সমস্ত সামগ্রী বাতিল করানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে সাত দিনের সময় দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। এরপর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।

তিনি আরও জানান, দুটি প্রতিষ্ঠানকে আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি বড় রেস্তোরাঁর খাদ্য সুরক্ষা লাইসেন্সের মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে বলে নজরে এসেছে। সেই প্রতিষ্ঠানকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নবদ্বীপে এই ধরনের অভিযান আগামী দিনেও নিয়মিত চলবে। অন্যদিকে, বন্ধ রাখার নির্দেশ পাওয়া একটি রেস্তোরাঁর মালিকের দাবি, প্রায় কুড়ি বছর ধরে তাঁরা এই ব্যবসা চালাচ্ছেন। বর্তমানে সেখানে ১০ জন কর্মী রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, মূলত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সাত দিন রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তবে তাঁর দাবি, কোনও মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার পাওয়া যায়নি এবং খাবার বা অন্য কোনও সামগ্রী বাজেয়াপ্তও করা হয়নি। শহরের হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলিতে খাবারের গুণমান এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে ফুড সেফটি দপ্তরের এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনেও এই নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।