মোটের উপর শান্তিপূর্ণ বিহারের ভোট

১৯৯৮ সালের পর ২০২৫-এর বিহার বিধানসভা নির্বাচনে রেকর্ড ভোট পড়ল বিহারে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে বিহারের ভোটগ্রহণ। নির্বাচন কমিশন জানাচ্ছে, অন্তত ৬৪.৬৬ শতাংশ ভোট পড়েছে বিহারে। তবে বেশ কিছু অশান্তি ও ভীতিপ্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। মহাজোটের পাশাপাশি এনডিএ প্রার্থীরাও সেই অভিযোগ তুলেছেন। নির্বাচন কমিশন জানাচ্ছে. ৬ নভেম্বর রাত ৮.১৫ নাগাদ জানিয়েছে ৬৪.৬৬শতাংশ ভোট পড়েছে। ১৫৭০ জন প্রিসাইডিং অফিসারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই তথ্য জানা গিয়েছে। কমিশন জানিয়েছে রাজ্যের ১৮ জেলার ১২১ বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ৩.৭৫ কোটির বেশি ভোট পড়েছে।  

বিদায়ী উপমুখ্যমন্ত্রী তথা লখিসরাই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিজয়কুমার সিনহার গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ইট পাথর, গোবর, জুতো ছোড়া হয়েছে বলে আরজেডির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। আরজেডির বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন আলিনগরের বিজেপি প্রার্থী, ভোজপুরি গায়িকা মৈথিলী ঠাকুর।

২৪৩ আসনবিশিষ্ট বিহার বিধানসভার ভোটগ্রহণ ছিল বৃহস্পতিবার। প্রথম দফায় মধ্য ও দক্ষিণপ্রান্তের ১৮টি জেলার ১২১ আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। ১৩১৪ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গিয়েছে, যা বন্দি রয়েছে ইভিএমে। নির্বাচন কমিশনের হিসেব অনুযায়ী, বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাসের নিরিখে এবারের ভোটদানের হার সর্বোচ্চ।

১৯৯৮ সালে বিধানসভা ভোটে বিহারে সার্বিকভাবে ভোট পড়েছিল- ৬২.৫৭ শতাংশ

২০২৫-এর ১০ নভেম্বর বিহারে যে ভোটগ্রহণ হল, তা সেই রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছে। ১১ নভেম্বর অর্থাৎ দ্বিতীয় দফার ভোটে সেই ভোটদানের হার অব্যাহত থাকে কিনা, সেটাই এখন দেখার।

এদিকে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল, প্রায় ২০ বছর পর শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে বিহারের মুঙ্গেরে। বৃহস্পতিবার বিহারের মুঙ্গের জেলার ৩ বিধানসভা ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ ভোটদান হয়েছে। মাওবাদী অধ্যুসিত তারাপুর বিধানসভার ভীমবাঁধ এলাকার ভোটদানও ঐতিহাসিক ছিল।

২০ বছর পর সেখানকার ভোটাররা নিজেদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটদান করেছেন। ২০০৫ সালে মাওবাদীরা তৎকালীন এসপি কেসি সুরেন্দ্রবাবু সহ ৭ পুলিশকর্মীকে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে উড়িয়ে দিয়েছিল। ওই ঘটনার পরে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভোটদান কেন্দ্র গ্রাম থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে স্থানান্তরিত করে দেয় নির্বাচন কমিশন। ২০ বছর ভীমবাঁধের বন বিভাগ বিশ্রামালয়ের মধ্যে থাকা ৩১০ নম্বর বুথে ভোটদান করেছেন ভোটাররা। ওই ভোটকেন্দ্র মোট ৩৭৪জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে ১৭০ মহিলা এবং ২০৪জন পুরুষ রয়েছেন। গণতন্ত্রের উৎসবে সামিল থাকতে পেরে অদ্ভূত প্রশান্তি লক্ষ্য করা গিয়েছে গ্রামবাসীদের চোখেমুখে। ৮১ বছরের এক বৃদ্ধ বিষ্ণুদেব সিং জানাচ্ছেন, ২০০৫ সালের আগে গ্রামে ভোটদান হত। কিন্তু মাওবাদী হিংসার কারণে প্রশাসনের গাড়িতে করেই আমাদের ভোটদান কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হত। দুরত্বে  বশি হওয়ার কারণে মহিলা এবং বয়স্করা ভোটদান করতে পারেননি।