কাউকে না জানিয়ে জেল থেকে সরানো হল ? সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া মেডিক্যাল রিপোর্টে কী বলা হচ্ছে ?

অনুসূয়া দাস, সাংবাদিক : পাকিস্তানের রাজনীতি আবারও উত্তপ্ত। রাজনীতিতে আবারও টানাপোড়েন। গত কয়েক মাস ধরেই ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা খবর সামনে আসছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা. আইনি লড়াই, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল ও স্পর্শকাতর। ইমরান খান। পাকিস্তানের রাজনীতিতে এক বিতর্কিত কিন্তু অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা। তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই এখনও বিশাল জনসমর্থন ধরে রেখেছে। যদিও শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশই আইনি জটিলতায় জড়িত। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ইমরানের বিরুদ্ধে হয় একাধিক মামলা। একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৩ সালে ইমরান খানকে গ্রেফতার করেছিল শাহবাজ সরকার। দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয়, গোপন তথ্য ফাঁস, তহবিল সংক্রান্ত অনিয়ম সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এখানেও ছিল দু তরফের দুটি ব্যাখ্যা। ইমরানের সমর্থকদের দাবি এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। অন্যদিকে সরকারের তরফে দাবি করা হয়, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। এর মধ্যেই পরিবারের অজান্তেই জেল থেকে ইমরান খানকে সরানোর পরিকল্পনা। গুরুতর অসুস্থ ইমরানকে নিয়ে উদ্বেগ পাকিস্তান। কেন এইভাবে কাউকে না জানিয়ে জেল থেকে সরানো হল ? সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া মেডিক্যাল রিপোর্টে কী বলা হচ্ছে ? ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কেমন ছিল ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা ? ডান চোখে কতটা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তিনি ?
পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে ফের জল্পনা শুরু। গত কয়েকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল জেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ইমরান। এবার দাবি করা হয় পরিবারকে না জানিয়ে তাঁকে জেল থেকে গোপনে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরিকল্পনা চলছে। ডান চোখে রয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি। দিনের পর দিন জেলে অত্যাচার ও অবহেলার জেরে এক চোখের পুরো দৃষ্টিশক্তি হারাতে বসেছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এমনটাই উঠে এসেছে এক মেডিক্যাল টিমের রিপোর্টে । পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া রিপোর্টে বলা হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ইমরান খানের দুই চোখের দৃষ্টিশক্তিই একদম স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু এরপর থেকে তিনি ক্রমাগত ঝাপসা দেখতে শুরু করেন, যা শেষ পর্যন্ত তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় পুরোপুরি কেড়ে নেয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষের দিকে, চোখের সমস্যার জন্য তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং একটি ছোটখাটো অস্ত্রোপচারও করা হয়েছিল। কিন্তু এই পুরো বিষয়টিই হয়েছিল পরিবারের অজান্তেই। এবার আবারও ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে ফের জল্পনা শুরু। পাকিস্তান তেহরিক ই ইননসাফের দাবি প্রাক্তন পাক অধিনায়ককে অত্যন্ত গোপনে জেল থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা চলছে। পরিবারের দাবি, ৭৩ বছরের ইমরান খানকে যে হাসপাতালে ট্রান্সফার করা হচ্ছে তা তার পরিবারকে জানানো হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে কী বলছে সে দেশের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ও আইন বিশেষজ্ঞরা? আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো পাকিস্তানের কারা- পরিস্থিতি নিয়ে অতীতে উদ্বেগ জানিয়েছে। রাজনৈতিক বন্দিদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য চিকিৎসা-রেকর্ড ও নিয়মিত মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। জেল থেকে ইমরান খানকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আবহে কী বলছে আইন বিশেষজ্ঞরা।
১. গুরুতর অসুস্থ বন্দিকে সরানোর আগে পূর্ণ মেডিক্যাল মূল্যায়ণ দরকার
২. পরিবার ও আইনজীবীকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত
৩. আদালতের অনুমতি ছাড়া এমন পদক্ষেপ প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে
পাকিস্তান সরকারের এই গোপনীয়তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ। অভিযোগ, যা ঘটছে তা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন, ইমরানের জীবন ঝুঁকির মধ্যে। ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে ইমরানের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়। শুধু তাই নয়, ইমরানের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তরফে চোখ পরীক্ষার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্রিকেট কিংবদন্তি ওয়াসিম আক্রাম প্রাক্তন পাকিস্তান অধিনায়ক ইমরান খানের জন্য কারাগারে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার আহ্বান জানিয়েছেন। ওয়াসিম আক্রাম এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, আমাদের অধিনায়ক ইমরান খান স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন শুনে মনখারাপ। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেবে এবং তিনি যেন সেরা চিকিৎসা পান তা নিশ্চিত করবে। তার শক্তি, দ্রুত আরোগ্য এবং সুস্বাস্থ্যে সম্পূর্ণ ফিরে আসার কামনা করছি।
ইমরান খান পাকিস্তানের রাজনীতিতে শুধুই একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি রাজনৈতিক আবেগ। একটি আন্দোলনের মুখ। তাঁর স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও আইনি ভবিষ্যৎ । সবকিছুই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। পরিবারের অজান্তে এই ব্যবস্থা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, এটা কি নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নাকি বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ ?