নয়ডার বিক্ষোভে পাক যোগ, দাবি মন্ত্রীর

বিক্ষোভে পাক-যোগেরও সম্ভাবনা থাকতে পারে, দাবি রাজ্যের শ্রমমন্ত্রীর

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : শ্রমিক বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত উত্তরপ্রদেশের শিল্পাঞ্চল নয়ডায়। সোমবারের সহিংসতার পর মঙ্গলবারও অবস্থান বিক্ষোভে অনড় হাজার হাজার শ্রমিক। এর মধ্যেই মজুরি বাড়ানোর ঘোষণা করল উত্তরপ্রদেশ সরকার, যা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন ন্যূনতম মজুরি গড়ে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। গৌতম বুদ্ধ নগর ও গাজিয়াবাদে অদক্ষ শ্রমিকদের মাসিক মজুরি ১১,৩১৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩,৬৯০ টাকা করা হয়েছে। অর্ধদক্ষদের ক্ষেত্রে তা ১২,৪৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫,০৫৯ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকদের মজুরি ১৩,৯৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬,৮৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন হার কার্যকর ধরা হয়েছে ১ এপ্রিল থেকে।

তবে মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণা সত্ত্বেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কম মজুরি, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে তাঁদের। সেই কারণেই সোমবার একাধিক কারখানায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, শতাধিক বিক্ষোভকারী একটি কারখানার গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়েন এবং ভাঙচুর চালান। পরে কারখানার ভিতরের সিসিটিভি ক্যামেরাও নষ্ট করে দেওয়া হয়।

প্রশাসন সূত্রে খবর, শহরের প্রায় ৮০টি এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং ৪০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক এই আন্দোলনে অংশ নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং বেশ কিছু জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনাও সামনে আসে।

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সকলকে সরকারি সূত্রের তথ্যেই আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিল্প মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নিয়ম মেনে মজুরি প্রদান, অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক, সাপ্তাহিক ছুটি, বোনাস এবং শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে মহিলা শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সম্মানের বিষয়েও জোর দিয়েছেন তিনি।

এই বিক্ষোভকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি রাজ্য সরকারের শ্রমনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আগামী মে-জুন মাসে স্থানীয় নির্বাচন এবং ২০২৭ সালে বিধানসভা ভোটের আগে এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

বেতন বৃদ্ধি নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক খবরের মধ্যেই রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অনিল রাজভর বলেন, ‘‘এটি সুপরিকল্পিত একটি ষড়যন্ত্র।’’ ওই অঞ্চল থেকেই সম্প্রতি পাক জঙ্গি সন্দেহে কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রীর দাবি, এই বিক্ষোভে পাক-যোগেরও সম্ভাবনা থাকতে পারে। সেই দিকটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অশান্তির ঘটনায় ৩০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিক্ষোভে পাক-যোগেরও সম্ভাবনা থাকতে পারে, দাবি রাজ্যের শ্রমমন্ত্রীর।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘প্রাথমিক তদন্তে এটাই উঠে এসেছে যে, রাজ্যে একটা অশান্তির আবহ তৈরি করতে শ্রমিকদের মধ্যে বেতন নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, নয়ডা এবং মেরঠ থেকে সম্প্রতি চার জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যাদের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগসূত্র মিলেছে।

সব মিলিয়ে, মজুরি বৃদ্ধি সাময়িক স্বস্তি দিলেও শ্রমিক অসন্তোষের মূল দাবিগুলি কতটা দূর হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।