পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এক্স পোস্টে জানিয়েছেন, “পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরাতে যে কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে, তাকে স্বাগত জানাচ্ছে ইসলামাবাদ।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : পশ্চিম এশিয়ার তীব্র অস্থিরতার আবহে শাহবাজ শরিফের মন্তব্যে নতুন করে জল্পনা। এবার কি ইরান ও আমেরিকার সংঘাত থামাতে তৃতীয় কোনও দেশে আলোচনায় বসতে চলেছে? সেই সম্ভাব্য মঞ্চ কি পাকিস্তান?
সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এক্স পোস্টে জানিয়েছেন, “পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরাতে যে কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে, তাকে স্বাগত জানাচ্ছে ইসলামাবাদ।”
একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে “অর্থপূর্ণ ও চূড়ান্ত আলোচনায়” মধ্যস্থতা করতে পাকিস্তান প্রস্তুত এবং সেই দায়িত্ব পেলে তারা সম্মানিত বোধ করবে। শরিফের এই বার্তার পরে নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এই পোস্ট শেয়ার করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই দুই পক্ষের সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে জোর জল্পনা ।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, শুধু পাকিস্তানই নয়— পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে আগ্রহী তুরস্ক ও মিশরও। তবে ইসলামাবাদে মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তাব পাকিস্তানের তরফ থেকেই দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে।
যদিও পাকিস্তানের বিদেশ দফতরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এই জল্পনায় সরাসরি কিছু বলেননি। তাঁর বক্তব্য, কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতেই পাকিস্তান কাজ করছে। একইসঙ্গে তিনি সংবাদমাধ্যমকে অযথা জল্পনা না বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত সাড়ে তিন সপ্তাহ ধরে ইরানকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ সামরিক পদক্ষেপে পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত নিয়ন্ত্রণে রেখে ইরান বিশ্ব বাণিজ্যেও বড় প্রভাব ফেলেছে। এর জেরে চাপের মুখে জ্বালানি সরবরাহ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থা।
এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে হরমুজ প্রণালী খোলার দাবি জানান। এমনকি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই অবস্থান কিছুটা নরম করে ট্রাম্প জানান, আপাতত পাঁচ দিন কোনও হামলা চালানো হবে না এবং ইরানের সঙ্গে প্রাথমিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে তেহরান এই দাবি খারিজ করে জানায়, আমেরিকার সঙ্গে তাদের কোনও আলোচনাই হয়নি। ফলে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব কতটা বাস্তব রূপ পায়, তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে কূটনৈতিক তৎপরতা যে জোরদার হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। আপাতত সেই সম্ভাব্য বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।