ডিম আতঙ্কে অফিসে আটকে পঞ্চায়েত সদস্যরা!

হরিণঘাটায় পঞ্চায়েত অফিসের বাইরে ডিম হাতে স্লোগান বিশাল সংখ্যক বিজেপি কর্মীদের।

বিশ্বজিৎ দেবনাথ, নিজস্ব সংবাদদাতা : তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য ভাঙিয়ে পঞ্চায়েত বোর্ড দখল করবে বিজেপি, এমনই ভাবনা ছিল। তাতে জল ঢেলে দিলেন তৃণমূলের বাকি সদস্যরা। হরিণঘাটা ব্লকের নগরউখড়া ২ পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনের তলবি সভা ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা। পঞ্চায়েত প্রধান রবিউল ইসলাম বেশ কয়েকদিন আগেই পঞ্চায়েতের প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপর বৃহস্পতিবার ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুপুর একটায় তলবি সভার দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিজেপির চার সদস্য নির্বাচন কক্ষে ঢুকে গেলেও। তৃণমূলের ১৬ জন সদস্যকে নির্বাচন কক্ষে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তাদের অন্য ঘরে ঢুকিয়ে তালা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সিপিএমের দুজন সদস্য তলবি সভায় উপস্থিত হননি। এরকম পরিস্থিতিতে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক ফোরাম না হওয়ায় এই তলবি সভা বাতিল করে দেওয়া হয় ।

পঞ্চায়েত অফিসের বাইরে বিশাল সংখ্যক বিজেপি কর্মীরা জমা জমায়েত হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের হাতে রয়েছে ডিম। তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যরা বেরোলেই তাদের ওপর ডিম থেরাপি দেওয়া হবে বলে সকলে দাঁড়িয়ে আছেন। ভয়ে তৃণমূল সদস্যরা পঞ্চায়েত অফিস থেকে বেরোতে পারছেন না। হরিণঘাটা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এসেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যরা ভিতরে আটকে থাকেন।

বিকেলে পঞ্চায়েত অফিসের সামনে এসে হাজির হন বিজেপির বিধায়ক অসীম সরকার। তিনি এসে বিজেপি কর্মীদের শান্ত করবার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবার চেষ্টা করেন। যারা বাইরে ডিম নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাদের বেশ কিছু জনের থেকে তিনি ডিম চেয়ে নিয়ে নেন দিয়ে বলেন আমরা কোন অশান্তি চাই না, কোন রকম গন্ডগোল হবে না- এরপর ছড়া কেটে তিনি বলেন -ডিম এবার আমার হাতে/ গন্ডগোল এখন নেই তাতে / আমি খাব ডিমভাতে। বিজেপি বিধায়কের উপস্থিতিতে পুলিশ দড়ি দিয়ে বেঁধে এলাকায় ঘিরে ফেলেন। বিজেপি কর্মীদের দূরত্ব বাড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের বড় ভ্যান নিয়ে এসে পঞ্চায়েত অফিস থেকে একে একে এরপর ছুটে বেরোন তৃণমূল কর্মীরা। পুলিশের গাড়িতে উঠে কোনোরকমে এলাকা ছাড়েন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যরা। এরই মধ্যে কয়েকজনের হাতে থাকা ডিম পঞ্চায়েত সদস্যদের ওপর ছুড়ে মারা হলে তার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।