দিল্লি বিমানবন্দরে পাইলটের হাতে মার খেলেন যাত্রী

এদিন বচসার ছবি ও নিজের আহত হওয়ার ছবি দিয়ে অঙ্কিত সেই অভিজ্ঞতার কথা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করতেই নড়েচড়ে বসেন এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস কর্তৃপক্ষ।

যাত্রীর সঙ্গে বচসা। ঘুসি মেরে নাক ফাটালেন স্বয়ং পাইলট। গত শুক্রবার দিল্লি বিমানবন্দরের টার্মিনাল–১ ঘটনা নিয়ে ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব আক্রান্ত যাত্রী। আক্রান্ত ব্যক্তি স্পাইসজেট উড়ান সংস্থার যাত্রী ছিলেন। যিনি তাঁকে মারধর করেন, তিনি এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের পাইলট। অভিযুক্ত পাইলটের নাম ও ছবি প্রকাশ্যে আনেন তিনি। যা নিয়ে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে অভিযুক্ত পাইলটের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে বিমান সংস্থা। অভিযুক্ত পাইলটকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

আক্রান্ত ব্যক্তি অঙ্কিত দেওয়ানের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারের সঙ্গে তিনি যখন বিমানবন্দরে ছিলেন, তখন এই ঘটনা ঘটে। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী, সাত বছরের কন্যা ও চার মাসের শিশু সন্তান ছিলেন। অঙ্কিত জানান, শিশুসন্তান থাকায় বিমানবন্দরের কর্মীরা তাঁদের PRM -এর জন্য নির্দিষ্ট সিকিউরিটি চেক লাইনে যেতে বলেন। ওই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় কয়েক জন কর্মী তাঁর সামনে দিয়ে লাইন ভেঙে এগিয়ে যান। অঙ্কিত বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানাতেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

 সেই সময় একই লাইনে থাকা এক পাইলট, যাঁকে তিনি ক্যাপ্টেন বীরেন্দ্র বলে শনাক্ত করেছেন, তাঁর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ, ওই পাইলট তাঁকে অশিক্ষিত বলে কটাক্ষ করেন এবং বোর্ডে লেখা নির্দেশ তিনি পড়তে পারেন কিনা, সেই প্রশ্ন তোলেন। এরমধ্যেই কথা কাটাকাটি দ্রুতই তীব্র আকার নেয়। অঙ্কিতের অভিযোগ, কথা কাটাকাটির মাঝেই ওই পাইলট তাঁকে মারধর করেন, যার ফলে তিনি আহত হন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন বেশ খানিকক্ষণ।

এদিন বচসার ছবি ও নিজের আহত হওয়ার ছবি দিয়ে অঙ্কিত সেই অভিজ্ঞতার কথা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করতেই নড়েচড়ে বসেন এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস কর্তৃপক্ষ।  ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই বিবৃতি জারি করেছে তাঁরা। অভিযুক্ত পাইলট যাত্রী হিসাবে অন্য উড়ান সংস্থার ফ্লাইটে সফর করছিলেন। সংস্থার তরফ থেকে এই ধরনের আচরণের তীব্র নিন্দা করেছে। ঘটনার তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ওই কর্মীকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকও কড়া অবস্থান নিয়েছে। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত পাইলটকে অবিলম্বে গ্রাউন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত শুরু করা হয়েছে।