‘প্রতিবাদের জবাব নীরবতা হতে পারে না’, কেন্দ্রকে এক হাত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : যন্তর মন্তর থেকে জলবায়ু আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুককে সরিয়ে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সমাজমাধ্যমে একাধিক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি সংলাপের বদলে নীরবতা ও দমননীতির পথ বেছে নিয়েছে কেন্দ্র।
মমতা লেখেন, সোনম ওয়াংচুক কেবল সরকারের সঙ্গে আলোচনার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে সেই আবেদন উপেক্ষিত হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ ভিন্নমতকে সম্মান জানিয়ে আলোচনায় বসা উচিত, নীরবতা নয়।’’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শুধু ওয়াংচুক নন, দেশের অসংখ্য তরুণের কণ্ঠস্বরও আজ উপেক্ষিত হচ্ছে।
ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, প্রয়োজনে তাঁকে কোনও বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হোক। সাধারণ মানুষ যদি চিকিৎসার খরচ বহন করতে চান, সেই সুযোগও সরকারের দেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার মাধ্যমেই মানুষের আস্থা অর্জন করা যায়, আন্দোলন দমন বা সংলাপ এড়িয়ে নয়।
মমতার আরও অভিযোগ, যে সরকার ভিন্নমতকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে না দেখে হুমকি বলে মনে করে, তারা জনগণের আস্থা দাবি করতে পারে না।
এ দিন সকালেই দিল্লি পুলিশ জান্তার মন্তর থেকে সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুলিশের দাবি, দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। টানা ২০ দিনের অনশনের জেরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সফদরজং হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার ডা. চারু বম্বা জানান, ওয়াংচুকের শরীরে সামান্য জলশূন্যতা এবং দীর্ঘ অনশনের কারণে দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। তবে তাঁর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক আপাতত স্থিতিশীল। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
উল্লেখ্য, দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়ম, বিশেষ করে নিট প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ দিন ধরে আমরণ অনশনে বসেছেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর আন্দোলনের সমর্থনে জন্তর মন্তরে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলিও যোগ দিয়েছে। আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, ওয়াংচুককে হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হলেও আন্দোলন থামবে না। তিনি নিজেও অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছেন।