ইরানের তরফে দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমানের গুরুতর ক্ষতি হয়েছে । একটি অত্যাধুনিক নজরদারি বিমানও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

শ্রেয়সী বল, সাংবাদিক : শক্তি প্রদর্শনের খেলায় এবার কি গো হারা হারবে ট্রাম্প। তেহেরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে যে তথ্য উঠে আসছে তাতে অন্তত এটাই স্পষ্ট হচ্ছে। জানা গেছে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা একটি আমেরিকান ই-৩ সেন্ট্রি অ্যাওয়েকস, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেখানে বেশকয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছে বলে খবর। এককথায় ক্রমশি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি।
ইরানের তরফেও হামলার দাবি করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমানের গুরুতর ক্ষতি হয়েছে । পাশাপাশি, একটি অত্যাধুনিক নজরদারি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। যদিও মার্কিন য়ুক্তরাষ্ট্রের তরফেও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। যেখানে দেখা যাচ্ছে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে একটি E-3 AWACS কমান্ড ও কন্ট্রোল বিমান হামলায় প্রায় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিমানের মূল কাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে, কেবল সামনের অংশ এবং পেচনের কিছু অংশ অক্ষত রয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হামলায় ব্যবহার করা হয় ছয়টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং প্রায় ২৯টি ড্রোন। হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে খবর।, যার মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর। পাশাপাশি একাধিক রিফুয়েলিং বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে দাবি করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি। তাদের দাবি, দীর্ঘ-পাল্লার ও মাঝারি-পাল্লার মিসাইল এবং আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন ও ইজরায়েলি ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করা হয়েছে। এছাড়াও তারা দাবি করেছে, একটি মার্কিন MQ-9 ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং একটি F-16 যুদ্ধবিমানেও আঘাত হানা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর থেকেই একের পর এক পাল্টা হামলা চলছে। ইরানের দাবি, মার্কিন ও ইজরায়েলি যৌথ বাহিনী তাদের উপর আক্রমণ চালিয়েছে এবং একাধিক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে রয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেই এবং নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি। এই সংঘাতের পিছনে ইরানের অন্যতম কারন হল, ইরানের মানুষের উপর এর প্রভাব। ইরানের মিনাব এলাকায় একটি মেয়েদের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় প্রায় ১৮০ জন ছাত্রী নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়া বুশেহর প্রদেশে একটি পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন এবং খুজেস্তান প্রদেশে একটি জল সরবরাহ কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এবার আসা যাক ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ ‘E-3 AWACS’ বিমানের কথায়। E-3 AWACS’ বিমানগুলো ১৯৭০-এর দশক থেকে আমেরিকার আকাশে কমান্ড ও কন্ট্রোল, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এগুলো ডেজার্ট স্টর্ম, কোসোভো যুদ্ধ, ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধ এবং আইএস বিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু ই-৩ বিমানগুলো বয়সে পুরনো এবং কিছু প্রতিদ্বন্দ্বীর সামর্থ্যের তুলনায় পিছিয়ে। বিমানবাহিনীর বর্তমান ফ্লিট মাত্র ১৬টি, এবং ২০২৪ সালে এর কার্যক্ষমতার হার ছিল মাত্র ৫৬ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের বিরল বিমান হারানো যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারে। প্রাক্তন এক বিমান চালকের কথায় এই ‘E-3 AWACS’ বিমানগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে সমন্বয়, টার্গেটিং এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অপরিহার্য। এর ক্ষতি সামগ্রিক বাহিনীর কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করবে। এই বিমান ধ্বংসের ফলে ফ্লিটের বাকি বিমানগুলোতে চাপ বেড়ে যাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের য়ুদ্ধ পরিচালনায় ক্ষেত্রে বড়সর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ‘সবথেকে বড় বিষয় এই সেনট্রি ফ্লিটের বিমান সহজে প্রতিস্থাপন করা যায় না। রিপ্লেস করতে হলে ‘E-7 AWACS’ওয়েজটেইল বিমান আনা প্রয়োজন, যার একটির দাম প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার।
ইতিমধ্যেই দেশের অন্দরে নো কিংস আন্দোলনের জেরে মুখ পুড়েছে ডোলান্ড ট্রাম্পের। অন্যদিকে ইরানের একের পর এক সাহসি পদক্ষেপ। এবার কি যবনিকা পতন হতে চলেছে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কেরিয়ারের। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এখন এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে।