‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুফল মিলছে বাংলায়

মোদীর ১২ বছরের সাফল্য তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ১২ বছরের সাফল্য তুলে ধরতে শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুফল পৌঁছতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের কাছে। আগামী দিনে সেই প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে বলেও আশাবাদী তিনি।

সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘মোদীজির নেতৃত্ব, দিশা এবং আশীর্বাদে আমরা কাজ করছি। অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা সম্ভব হয়েছে। সাধারণ মানুষ ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুবিধা অনুভব করতে শুরু করেছেন। আগামী দিনে সেই সুবিধা আরও দৃশ্যমান হবে।’’

জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে বিএসএফের হাতে জমি হস্তান্তরের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের ‘চিকেনস নেক’ করিডর সংলগ্ন এলাকায় সীমান্ত বেড়া নির্মাণের কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস নয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এই কাজ সম্পূর্ণ করা হবে।’’

রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, জনগণনা প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হয়েছে। জল জীবন মিশনের জন্য ৩৯ হাজার কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার কাজও চূড়ান্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনার মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারগুলিকে বিনামূল্যে বিদ্যুতের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর ১২ বছরের শাসনকালের সাফল্য তুলে ধরতে দেশজুড়ে এই কর্মসূচি চলছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা এবং দেশের দীর্ঘতম সময় দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীজি যে উন্নয়নের নজির গড়েছেন, তা মানুষের সামনে তুলে ধরাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।’’

সাংবাদিক বৈঠকের বাইরে একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়। সেখানে কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণ, বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সুবিধা এবং কল্যাণীতে এইমসের স্বাস্থ্য পরিষেবা-সহ কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সাফল্য তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বাংলার ৫৪ লক্ষ কৃষক সরাসরি প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির টাকা পাচ্ছেন। ৩ লক্ষ মহিলা ‘লখপতি দিদি’ হয়েছেন। রাজ্যে ৭৪ লক্ষ শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় প্রায় ৪০ লক্ষ পরিবার পাকা বাড়ি পেয়েছে। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সফল বাস্তবায়নই আগামী দিনের উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে দেবে।