বাঁকিপুরে বিজেপির দুর্গ ভেঙে বার্তা প্রশান্ত কিশোরের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বাঁকিপুরে বিজেপির দুর্গে ধস নামিয়ে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিলেন জন সুরাজের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। সদ্য নির্বাচিত বিধায়কের দাবি, এই উপনির্বাচনের ফল আসলে সরকার বদলের পক্ষে জনমত নয়। বরং বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্ব বদলের বার্তা দিয়েছে রাজ্যের মানুষ। তাঁর নিশানায় মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। মঙ্গলবার বাঁকিপুরে উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে পিকে বলেন, ‘‘বিজেপি এবং এনডিএ নেতৃত্বকে মানুষ বার্তা দিয়েছেন— আরও ভাল কাউকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী করুন। ক্ষমতায় আসার সময় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণে নজর দিন।’’
প্রশান্ত কিশোরের বক্তব্য, বিহারের রাজনীতিতে অপরাধ, ‘হাফ এনকাউন্টার’ কিংবা ধর্ম পরিচয় দেখে মানুষকে গুলি করার মতো ভাষা বন্ধ হওয়া দরকার। তার বদলে আলোচনার কেন্দ্রে আসা উচিত শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং পরিযায়ী শ্রমিকের সমস্যা।

বাঁকিপুরে বিজেপির এই পরাজয়কে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পিকে। কারণ গত নভেম্বরের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনেই বিজেপি ৫১ হাজারের বেশি ভোটে জয় পেয়েছিল। তাঁর প্রশ্ন, কয়েক মাসের মধ্যে এমন কী বদলাল? তাঁর যুক্তি, বাঁকিপুরের রাস্তা হঠাৎ খারাপ হয়ে যায়নি, স্থানীয় পরিস্থিতিতেও বড় পরিবর্তন হয়নি। বদলেছে শুধু বিহারের নেতৃত্ব। আর সেই নতুন নেতৃত্বকে মানুষ মেনে নিতে পারছেন না বলেই তাঁর দাবি।
সম্রাটকে আক্রমণ করে কিশোরের কটাক্ষ, যে ‘জঙ্গলরাজ’-এর বিরুদ্ধে প্রচার করে বিজেপি ভোট চেয়েছিল, সেই একই রাজনীতির প্রতিনিধিকে গেরুয়া চাদর জড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসালে মানুষ তা মেনে নেবেন না।
তবে এই ফলের জেরে বিহারে সরকার বদলের কোনও সম্ভাবনা দেখছেন না প্রশান্ত কিশোর। তাঁর কথায়, এনডিএ-র বিধানসভায় স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে আগামী চার বছর সরকার টিকে থাকবে। বদল যদি কিছু হয়, তা হবে শুধু নেতৃত্বে।

বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব সম্পর্কেও মন্তব্য করেছেন পিকে। তাঁর মতে, আগামী চার বছর বিরোধী দলনেতা হিসাবে তেজস্বী কতটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন, তার উপরই নির্ভর করবে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
উল্লেখযোগ্য, ১৯৯৫ সাল থেকে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত বাঁকিপুর। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন আসনটি ছেড়ে দেওয়ার পর উপনির্বাচনে প্রার্থী হন প্রশান্ত কিশোর। ১৯,৩২৪ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়ে প্রথম বার নির্বাচনী রাজনীতিতে সাফল্যের মুখ দেখেছেন তিনি। পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, বেকারত্ব-সহ একাধিক ইস্যুতে যুব সমাজের ক্ষোভের মধ্য়েই এই জয় হিন্দি বলয়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।