সুন্দরবনে ব্যতিক্রমী লক্ষ্মীপুজো!

শ্যাম বিশ্বাস, নিজস্ব সংবাদদাতা:  বাপের বাড়ি থেকেমা দুর্গার কৈলাসে পাড়ি দেওয়ার পরই আসেন মা লক্ষ্মী। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে ঘরে ঘরে মায়ের আরাধনা করা হয়। খিচুরি, লুচি, পায়েশের পাশাপাশি খই, নারকেল, তিল, চিড়ের নাড়ু সহযোগে মা লক্ষ্মীকে ভোগ দেওয়া হয়। কিন্তু বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের প্রত্যন্ত সুন্দরবন এলাকার আমবেড়িয়ায় এবারের কোজাগরী লক্ষ্মাপুজা ছিল অন্যরকম। স্থানীয় মহিলা সমিতির সম্পাদক পারুল জোদ্দার এবং গৃহকর্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার নিজের বাড়িতেই উদযাপন করলেন লক্ষ্মীপুজো। কিন্তু সম্পূর্ণ পারিবারিক ও ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে। শুধু লক্ষ্মীর আরাধনা নয়, এই বছরের পুজোয় বিশেষ স্থান পেয়েছিল তাদের বাড়ির পোষ্য বিড়াল।

গৃহকর্ত্রী  পারুল জোদ্দার বলেন, “বিড়াল মা ষষ্ঠীর বাহন। লক্ষ্মীর মতোই ধন-সম্পদ এবং শান্তি রক্ষা করে। ঠিক তেমনি আমাদের পোষ্য বিড়ালও পরিবারের বিপদে-আপদে পাশে থাকে। তাই আমাদের বাড়িতেও তাকে সসম্মানে পুজো করা হয়।” এই অনন্য দৃষ্টান্ত শুধু ধর্মীয় ভক্তি নয়, বরং পোষ্য প্রাণী ও মানুষের মধ্যে স্নেহ ও দায়িত্ববোধ প্রদর্শনের বার্তাও বহন করেছে।

আমবেড়িয়ার এই উদাহরণ স্থানীয় সমাজে পোষ্য প্রাণীকে সম্মান প্রদানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পারুল জোদ্দার বলেন, “আমাদের ছোট ছোট উদাহরণগুলোই সমাজের কাছে বড় বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। শুধুমাত্র মানুষ নয়, প্রাণীদেরও আমাদের ভালোবাসা ও সম্মান দরকার।” পূজার এই ধরণের উদ্ভাবনী রীতি দেখিয়েছে, কীভাবে প্রাচীন উৎসবকে আধুনিক চিন্তা ও প্রাণীপ্রেমের সঙ্গে মেলানো যায়? স্থানীয়রা এই অনুষ্ঠান দেখে উৎসাহী হয়েছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভাইরালও হয়েছে।

অন্যদিকে, সান্ডালার বিল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সপ্তম বছরের কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো শুরু হল মাতৃশক্তি অর্থাৎ মহিলাদের পুজোর মধ্যে দিয়ে। এলাকার সর্বস্তরের মানুষ এই পুজোয় অংশগ্রহণ করেন। এই পাঁচ দিনব্যাপী একাধিক অনুষ্ঠান চলে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়। এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সমাজের বিশিষ্টজনেরা। এই পুজোর বিষয়ে পুজো উদ্যোক্তা নমিতা মণ্ডল বলেন, আমাদের পুজো এবার সপ্তম বছরে পদার্পণ করেছে। আগামীদিনে অন্যভাবে এই পুজোকে মানুষের সামনে উপস্থাপন করবো।