জয়ের প্রতীক-এর খোঁজে ট্রাম্প

ইরান-আমেরিকা টানাপোড়েনে অচলাবস্থা!

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ইরান-আমেরিকা সংঘাতের সাম্প্রতিক পর্বে কূটনৈতিক সমাধানের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জয়ের প্রতীক নিয়ে রাজনীতি। এমনটাই মনে করছেন বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞ রবীন্দর সচদেব। তাঁর মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি দৃশ্যমান সাফল্যবার্তা চাইছেন, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্পষ্ট বার্তা দেবে যে আমেরিকা ইরানের উপর হামলা করে প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করেছে।

এক সাক্ষাৎকারে সচদেব বলেন, ট্রাম্পের লক্ষ্য হতে পারে এমন যে, তেহরানের বিমানবন্দরে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ড্রাম সাজানো অবস্থায় একটি মার্কিন সামরিক বিমানে তা তোলা হচ্ছে—এমন একটি ছবি। তাঁর কথায়, “এই ছবি বিশ্ববাসীর কাছে ইরানের আত্মসমর্পণের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।” তবে বিশেষজ্ঞের মতে, এই ধরনের প্রতীকী দৃশ্য মেনে নেওয়া ইরানের পক্ষে কার্যত অসম্ভব, ফলে আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই সংঘাতের প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। সচদেবের মতে, রাশিয়ার তেলের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ছাড় ভারতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। তিনি জানান, সমুদ্রপথে অপেক্ষায় থাকা রুশ তেল দ্রুত ভারতে পৌঁছতে পারে এবং তুলনামূলক সস্তায় তা পাওয়ার যেতে পারে, এমন সম্ভাবনাও রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, উপসাগরীয় অঞ্চলে উৎপাদন বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগবে, সেই তুলনায় রুশ তেল অবিলম্বে স্বস্তি দিতে পারে ভারতীয় অর্থনীতিকে।

নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক আশাবাদী সচদেব। তাঁর মতে, যদি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন, তবে চুক্তির সম্ভাবনা কিছুটা বাড়বে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, সম্ভাব্য কোনও সমঝোতা ‘বৃহৎ চুক্তি’ নাও হতে পারে এবং অঞ্চলে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।

হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সচদেবের মতে, এই জলপথ খোলা রাখা যে কোনও সমাধানের মূল শর্ত। তবে এর বিনিময়ে ইরান আর্থিক ছাড়, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা অর্থ ফেরতের মতো দাবি তুলতে পারে। তাঁর কথায়, এই তিনটি বিষয়—নিষেধাজ্ঞা, বিদেশে থাকা অর্থ এবং সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ—নিয়ে একটি ত্রিভুজাকারে দরকষাকষি চলবে।

এ ছাড়াও, ন্যাটো ও ইউরোপ নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষের কথাও উল্লেখ করেছেন সচদেব। তাঁর মতে, প্রতিরক্ষা ব্যয়, পরিবেশনীতি এবং অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক নীতির মতো নানা বিষয় নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে ইউরোপের মতপার্থক্য দীর্ঘদিনের। আদর্শগত দিক থেকেও এই দূরত্ব বাড়ছে।

সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি জটিল এবং বহুস্তরীয়। প্রতীকী সাফল্যের রাজনীতি, অর্থনৈতিক চাপ এবং কূটনৈতিক দরকষাকষির মাঝেই নির্ধারিত হবে আগামী দিনের সমীকরণ।