মণ্ডপে মণ্ডপে পকেটমারি! বাঁকুড়ার লজ থেকে গ্রেফতার ১৩


পুজোর সময় ভিড়ের সুযোগ নিয়ে বাঁকুড়া শহরে একের পর এক মণ্ডপে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সামগ্রী ছিনতাই ও হাত সাফাই এর পরিকল্পনা করে বাঁকুড়া শহরের একটি বেসরকারি লজে ঘাঁটি গেড়েছিল ছিনতাইবাজদের একটি বড়সড় আন্ত:রাজ্য চক্র। পুজোর দিনগুলিতে অবাধে তারা দর্শনার্থীদের কাছ থেকে অলঙ্কার, ঘড়ি ও মোবাইল চুরির কাজে সাফল্যও পায়। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। তদন্তে নেমে অবশেষে বাঁকুড়ার ওই বেসরকারি লজে হানা দিয়ে ওই আন্ত:রাজ্য চক্রের পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করল বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ। ধৃতদের আজ বাঁকুড়া জেলা আদালতে তোলা হলে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত প্রত্যেককে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত।

মিলন কর্মকার নিজস্ব সংবাদদাতা

পুজোর সময় ভিড় ঠেলে একের পর এক মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর দেখেন হাজার হাজার মানুষ। প্রায় প্রত্যেকের গায়েই থাকে দামী অলঙ্কার, ঘড়ি। হাতে থাকে মোবাইল ফোন। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে সেই সব সামগ্রী হাত সাফাই অথবা ছিনতাই করার উদ্যেশ্যে পুজোর আগেই বাঁকুড়ার একটি বেসরকারি লজে আস্তানা গেড়েছিল আন্ত:রাজ্য ছিনতাই চক্রের পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে মোট ১৩ জন। এই ১৩ জনের মধ্যে কারো বাড়ি উত্তরপ্রদেশ, কারো বিহার, কারো ঝাড়খণ্ড আবার কারো বাড়ি ওড়িশায়। এদের মধ্যে দুজন মহিলার বয়স ৬০ বছরের উর্ধে। পুজোর কয়েকদিন ধরে বাঁকুড়ার বিভিন্ন বড় মণ্ডপে ছড়িয়ে ছিটিয়ে এই চক্রের ছিনতাইবাজরা একের পর এক দর্শনার্থীর কাছ থেকে সোনার গহনা, ঘড়ি ও মোবাইল হাত সাফাই করতে সফলও হয়।

পুজোর মধ্যেই বাঁকুড়া সদর থানায় পৃথক পৃথক ভাবে হাজির হয়ে দুই মহিলা অভিযোগ জানান বাঁকুড়ার নতুনচটি সর্বজনীন ও মধ্য কেন্দুয়াডিহি সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপ দেখতে গিয়ে খোয়া গেছে তাঁদের গলায় থাকা সোনার হার। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ওই আন্ত:রাজ্য ছিনতাইবাজ চক্রের হদিশ পায়। এরপরই পুলিশ হানা দেয় বাঁকুড়ার গোবিন্দনগরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় থাকা একটি বেসরকারি লজে। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় ওই চক্রের সঙ্গে যুক্ত পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে মোট ১৩ জনকে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় খোয়া যাওয়া হার দুটি। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা তা যেমন খতিয়ে দেখা হচ্ছে তেমনই এই চক্র আর কোনো চুরি বা ছিনতাই এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।