মোদীকে মারার চক্রান্ত, নেপথ্যে কে?

এসসিও সম্মেলনে মোদীকে মারার চক্রান্ত হয়েছিল। তা আঁচ করতে পেরেই নিজেকে গাড়িতে তুলেছিলেন ভ্লাদিমীর পুতিন।

জুলেখা নাসরিন, সাংবাদিক: এসসিও সামিটে মোদী-পুতিনকে একই লিমুজিনে চাপতে দেখা গিয়েছিল। যে ছবি ভাইরালও হয়েছিল সমাজমাধ্যমে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এক গাড়িতে চড়ার পিছনে একটা বড় গল্প রয়েছে। নরেন্দ্র মোদীকে প্রাণে মারার চক্রান্ত। সদ্য শেষ হওয়া এসসিও সামিটে প্রাণে মারার চক্রান্ত হয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। কে বা কারা মোদীকে প্রাণে মারার চেষ্টা করেছিল সেটা স্পষ্ট নয়। হতে পারে বাংলাদেশও। কারণ হাসিনা সরকার পতনের পরে প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক একে বারে তলানিতে ঠেকেছে।

ঢাকার হোটেলে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয়েছে আমেরিকান স্পেশাল ফোর্সেস-এর এক সিনিয়র অফিসারের। ৩১ অগাস্ট ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলের ৮০৮ নং ঘর থেকে আমেরিকান ফার্স্ট স্পেশাল ফোর্সেস কমান্ড ইন্সপেক্টর জেনারেল টেরেন্স আরভেল জ্যাকসনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। বাংলাদেশ পুলিশের বক্তব্য, এই মৃত্যুর পিছনে কোনও অস্বাভাবিকতা নেই। ফলে ওই অফিসারের দেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই তুলে দেওয়া হয় আমেরিকান দূতাবাসের হাতে। গত ছয় মাস ধরে বাংলাদেশে ছিলেন জ্যাকসন। বাংলাদেশ পুলিশ আরও বলেছে, জ্যাকসন সরকারিভাবে বাংলাদেশে বিজ়নেস ট্রিপে বাংলাদেশে এসেছিলেন। ঢাকার হোটেলে আমেরিকান অফিসারের মৃতদেহ পাওয়ার পরেই এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।

বাংলাদেশ পুলিশ আগেই তাঁদের বিবৃতিতে জানিয়েছে জ্যাকসন গত ছয় মাস ধরে বাংলাদেশে থাকছেন। কারন তিনি সরকারি ভাবে বিজনেস ট্রিপে বাংলাদেশে এসেছিলেন। আবার ঢাকার গুলশান থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলছেন, ২৭ অগাস্ট ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে হোটেল ওয়েস্টিনের ঘরটি ভাড়া নিয়েছিলেন জ্যাকসন। দু’দিন ধরে তিনি কোনও খাবার অর্ডার না করায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়েছিল। কিন্তু জ্যাকসন ওয়েস্টিন হোটেলে কেন এসেছিলেন, কী করছিলেন, কাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন, হোটেল থেকে ঢাকার কোন কোন জায়গায় গিয়েছিলেন এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তরে এখনও অস্পষ্ট। এমনকি পুলিশের বক্তব্যও ধন্দ বাড়াচ্ছে।

জেনারেল জ্যাকসনের ব্যবসায়িক সফর নিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দাদের এই সন্দেহের অন্যতম কারণ ঢাকার প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। ২০২৪ সালে কমপক্ষে ছয়বার বাংলাদেশে এসেছিলেন পিটার হাস। তার বারবার বাংলাদেশে আসার কারণ ছিল ব্যবসায়িক। তবে ব্যবসার কাজের অছিলায় দেখা করেছিলেন একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে। যেমন ৫ অগাস্ট, কক্সবাজারে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত জাতীয় সমন্বয় পার্টির পাঁচ নেতার সঙ্গে দেখা করেছিলেন পিটার। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এই পাঁচ জনের। আবার ২০২৪-এর ৫ অগাস্টই বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। ফলে মার্কিন সেনার বিশেষ বাহিনীর এক প্রাক্তন সিনিয়র কর্তার একটানা বাংলাদেশে অবস্থান। একজন প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ঘন ঘন সফর বাংলাদেশ সফর। বাংলাদেশে মার্কিনিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি। এমনকি ঢাকায় মার্কিনীদের কর্মকাণ্ডের উপরেও নজর রাখছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।

তবে এসসিও সম্মেলনেও কি মোদীকে মারার একটা চক্রান্ত হয়েছিল। আর সেটা আগেভাগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। সেই কারণেই তিনি নিজের গাড়িতে তুলে নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদীকে। গাড়ির পিছনের সিটে মোদী-পুতিনের বসে থাকার দৃশ্য ভাইরাল হয়েছিল আমরা প্রত্যেকেই জানি। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিলেন ভারতীয় গোয়েন্দাদের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। ১৬ অক্টোবরের পরিবর্তে ১৭ অক্টোবর তাঁরা ঢাকা থেকে ফেরেন। ওই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও ও লালমুনির হাট গিয়েছিল। ভারতীয় গোয়েন্দারা ঠাকুরগাঁও ও লালমুনির হাটের পাশাপাশি কক্সবাজার ও চট্টগ্রামও গিয়েছিল। আর কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে অত্যন্ত গোপনে গিয়েছিলেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে একটি রেডারের হদিশ পান ভারতীয় গোয়েন্দারা। যদিও ভারতের স্যাটালাইট ইমেজে আগেই ধরা পড়েছিল রেডারের উপস্থিতি।

ওই রেডার তৈরি করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পরে। অর্থাৎ হাসিনা সরকারের পতনের পরে। কক্সবাজার, চট্টগ্রামে গোপনে রেডার তৈরির কথা। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি কার্যকলাপের কথা, বাংলাদেশে পাক মদতে জঙ্গি ঘাঁটি তৈরির কথা – সব বিষদে বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ওয়াকারকে জানান ভারতীয় গোয়েন্দারা। ভারতীয় গোয়েন্দাদের কথা জেলারেল ওয়াকার হেসে উড়িয়ে দেবেন নাকি দেশ সামলাবেন। তবে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিন্তু অনেক আগেই ভারতীয় গোয়েন্দাদের বেশ কিছু গোপন অফিশিয়াল তথ্য দিয়ে জানিয়েছিলেন, সাবধানে থাকবেন মোদীজী। ঈশ্বর আপনাকে আরো দীর্ঘ আয়ু দিন……