ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী

‘বিনতাং আদিপূর্ণ’ পদকে ভূষিত মোদী, প্রতিরক্ষা ও খনিজ সহযোগিতায় খুলে গেল নতুন দিগন্ত

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : জাকার্তায় রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে বিরল সম্মানে ভূষিত হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে সে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘বিনতাং রিপাবলিক ইন্দোনেশিয়া আদিপূর্ণ’ (Bintang Republic Indonesia Adipurna) পদকে সম্মানিত করেন। ১৯৫৯ সালে প্রবর্তিত এই সম্মান ইন্দোনেশিয়ার ঐক্য, উন্নতি ও সমৃদ্ধিতে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি— নাগরিক কিংবা সামরিক ব্যক্তিত্ব—কে প্রদান করা হয়।

রাষ্ট্রপতি ভবন ইস্তানা মেরদেকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সম্মান গ্রহণ করেন মোদী। সম্মান পাওয়ার পর ইন্দোনেশিয়ার সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “ইস্তানা মেরদেকায় উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ।”

এর আগে জাকার্তার রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার-সহ জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বৈঠকের আগে সৌহার্দ্যপূর্ণ করমর্দন করেন এবং রাষ্ট্রপতি ভবনের অতিথি-পুস্তিকায় স্বাক্ষরও করেন মোদী।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, এই সফর ভারত-ইন্দোনেশিয়া ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-কে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, অবকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রযুক্তি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলেও জানানো হয়েছে।

সূত্রের দাবি, এই সফরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতাকে স্বীকৃতি দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার জন্য বিশেষ ধরনের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) তৈরিতে ভারত সহযোগিতা করতে পারে। পাশাপাশি ভারতের তৈরি ‘অস্ত্র’ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্তও নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া বলে সূত্রের খবর।

শুধু প্রতিরক্ষা নয়, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ইন্দোনেশিয়ায় ইস্পাত, নিকেল এবং বিরল মৃত্তিকা চুম্বক (রেয়ার আর্থ পার্মানেন্ট ম্যাগনেট) উৎপাদনে ভারত বিনিয়োগ করবে বলেও জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার আরও সম্প্রসারণে ভারত অতিরিক্ত ব্যাটারি সরবরাহ করবে।

এ ছাড়া মালাক্কা প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্বকে সামনে রেখে সাবাং বন্দরের যৌথ উন্নয়ন নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়েছে। ভারতের গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের নিকটবর্তী এই বন্দর ভবিষ্যতে ভারত-ইন্দোনেশিয়া সামুদ্রিক সহযোগিতার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলেই কূটনৈতিক মহলের ধারণা।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি, এই সফর দুই দেশের বহুমুখী সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।