প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বিশ্বজয়ী টিম!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ওমেন্স ওয়ার্ল্ড কাপ জয়ী টিমের সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ভালোলাগা দীর্ঘদিনের। প্রধানমন্ত্রীকে জানালেন ইন্ডিয়ার অল রাউন্ডার দীপ্তি শর্মা। টিম ইন্ডিয়াকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী।

সূচনা পল্যে, সাংবাদিক: প্রথমবারের মতো বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। দেশজুড়ে সেই ঐতিহাসিক জয়ের রেশ এখনও কাটেনি। আবেগ, গর্ব আর আনন্দে ভাসছে গোটা ভারত। গত রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েছে ভারতীয় মহিলা দল। ১৭ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তারা এনে দিয়েছে দেশের প্রথম মহিলাদের বিশ্বকাপ। ফাইনালে দীপ্তি শর্মার অসাধারণ অলরাউন্ডার পারফরম্যান্স, ৫ উইকেট আর ৫৮ রানের ইনিংস,দলকে এনে দিয়েছে কাঙ্ক্ষিত জয়। বিশ্বজয়ী এই দলকে অভিনন্দন জানাতে এবার এগিয়ে এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লির ৭ নম্বর লোককল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে দলের ব্লেজার পরে হরমনপ্রীতরা হাজির হন। সেখানে তৈরি হয় আনন্দ, হাসি আর গর্বের মুহূর্ত।

সাক্ষাতের সময় ক্রিকেটারদের সঙ্গে গল্পে মেতে উঠেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বকাপ ফাইনাল থেকে শুরু করে তাঁদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা- আলোচনায় উঠে আসে নানান প্রসঙ্গ। সেই সময় হারলিন দেওলের প্রশ্নে হাসির রোল ওঠে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে। তিনি জানতে চান, ‘আপনি এত উজ্জ্বল কীভাবে? কীভাবে ত্বকের যত্ন নেন?’ উত্তরে মোদী বলেন, ‘আমি এসব নিয়ে ভাবি না।’ পাশে থাকা স্নেহ রানা মজা করে বলেন, ‘দেশবাসী আপনাকে ভালোবাসে।’ মোদির জবাব-‘হ্যাঁ, এটাই তো শক্তি, যা এতদিন সরকারে রেখেছে।

এই সময় দীপ্তি শর্মা জানান, ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পরামর্শই তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন-‘আপনি তখন বলেছিলেন, একজন খেলোয়াড়ের আসল পরিচয় সে কেমন করে ব্যর্থতা থেকে উঠে দাঁড়ায়। সেই কথাই আমাদের পথ দেখিয়েছে।’ দীপ্তি আরও বলেন, ‘আমি প্রায়ই আপনার ভাষণ শুনি। আপনি যেভাবে শান্তভাবে সব সামলান, সেটা আমাকে মানসিক শক্তি দেয়।

মোদীও আগ্রহভরে জানতে চান দীপ্তির হাতে থাকা ভগবান হনুমানের ট্যাটুর ব্যাপারে। উত্তরে দীপ্তি বলেন, ‘আমি নিজের থেকে ভগবান হনুমানের উপর বেশি বিশ্বাস রাখি। উনিই আমাকে শক্তি দেন। বিশ্বজয়ী দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ‘নমো’ লেখা ১ নম্বর জার্সি উপহার দেওয়া হয়। সেই জার্সির পেছনে সই করেছেন দলের প্রত্যেক সদস্য।

অন্যদিকে, হরমনপ্রীত কৌর ও স্মৃতি মন্ধানা তাঁদের এই বিজয়কে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রাখলেন- দু’জনেই করালেন বিশ্বকাপ জয়ের উল্কি। হরমনপ্রীতের উল্কিতে লেখা ‘২০২৫’ ও ‘৫২’, আর স্মৃতির হাতে ভারতের পতাকা-সহ বিশ্বকাপের প্রতীক। শুধু তাই নয়, জয়পুরের বিখ্যাত মিউজ়িয়ামে স্থাপন করা হবে হরমনপ্রীতের মোমের মূর্তি। আগামী বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসে উন্মোচিত হবে সেই মূর্তি। ইতিমধ্যেই ধোনি, সচিন, বিরাটদের পাশে জায়গা পাচ্ছেন এই বিশ্বজয়ী অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা।

ভারতের এই ঐতিহাসিক জয় শুধু একটি ট্রফি জেতার গল্প নয়-এটা নারী শক্তির প্রতীক, সাহস ও অধ্যবসায়ের এক নতুন অধ্যায়। হরমনপ্রীতদের এই জয় প্রমাণ করেছে-স্বপ্ন সত্যি করার ইচ্ছে থাকলে মেয়েরাও আকাশ ছুঁতে পারে। এই বিশ্বজয় ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এক সোনালি অধ্যায়। যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারী ক্রিকেটারদের কাছে চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।