শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে মোদীর কলমে শ্রদ্ধার্ঘ্য, ‘ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত ভারত গড়ার প্রেরণা আজও তিনি’

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ভারতের জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষাবিদ ও প্রখ্যাত রাজনীতিক ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর জীবন, আদর্শ ও অবদানকে তুলে ধরে বিশেষ নিবন্ধ লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি লিখেছেন ‘A Life Dedicated to the Unity and Progress of India’ । প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, শিক্ষা, শিল্প, মানবকল্যাণ এবং জাতীয় সংহতির ক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান আজও ‘বিকশিত ভারত’-এর পথে দেশের অন্যতম প্রেরণা।

প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, বিত্তশালী পরিবারে জন্ম হলেও শ্যামাপ্রসাদ ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবর্তে জনসেবার পথ বেছে নিয়েছিলেন। জীবনে একাধিক ব্যক্তিগত শোক— অল্প বয়সে সন্তানের মৃত্যু এবং পরে স্ত্রীর প্রয়াণ— তাঁকে ভেঙে দেয়নি, বরং দেশসেবার প্রতি তাঁর অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছিল।

নিবন্ধে দেশভাগের সময় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে ধরে রাখার ক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকারও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর প্রশ্নে তাঁর আন্দোলন এবং বন্দিদশায় মৃত্যুকে ‘জাতির স্মৃতিতে অমর আত্মবলিদান’ বলে বর্ণনা করেছেন মোদী। তাঁর দাবি, অনুচ্ছেদ ৩৭০ ও ৩৫(এ) বাতিলের মাধ্যমে সেই আত্মত্যাগ যথার্থ মর্যাদা পেয়েছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়েছেন, তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য ছিলেন। শিক্ষার উদ্দেশ্য সম্পর্কে শ্যামাপ্রসাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মোদী লিখেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবল কেরানি তৈরির কারখানা হতে পারে না; বরং ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তোলাই শিক্ষার মূল লক্ষ্য।

শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকার উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন, সিন্দ্রি সার কারখানার মতো প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পাশাপাশি তাঁতি, কুটির শিল্প এবং ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশেও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

নিবন্ধে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিও শ্যামাপ্রসাদের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেছেন মোদী। স্বাধীনতার পরে দেশের স্বার্থে জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় যোগ দিলেও, নীতিগত মতপার্থক্যের কারণে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রথম সংবিধান সংশোধনের বিরোধিতা এবং পরবর্তী সময়ে জরুরি অবস্থা ও ৪২তম সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসেরও সমালোচনা করেছেন তিনি।

১৯৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ এবং ১৯৪২ সালের মেদিনীপুরের ঘূর্ণিঝড়ের সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ত্রাণ ও মানবিক উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। নিবন্ধের শেষে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে শ্যামাপ্রসাদের বার্তা উদ্ধৃত করে মোদী বলেন, সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করাই তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধার্ঘ্য। সেই আদর্শকে সামনে রেখে শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ, আত্মবিশ্বাসী ও সংবেদনশীল ভারত গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।