ফলে গেল নরেন্দ্র মোদীর ভবিষ্যদ্বাণী!

নির্বাচনী প্রচারেই এনডিএর বাঁধভাঙা জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী! বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিন মিলে গেল সেই ভবিষ্যদ্বাণী।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএর বাঁধভাঙা জয়ের পর উদযাপনে মেতেছেন নীতীশ কুমারের জেডিইউ এবং বিজেপির সমর্থকেরা। ইতিমধ্যে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, এনডিএ এমন জয় পেতে চলেছে, যা বুথফেরত সমীক্ষার ফলকেও  ছাপিয়ে যাবে। কিন্তু এমনই বাঁধভাঙা জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী অনেক আগেই করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।  বিহারের সীতামারিতে নির্বাচনী প্রচারের সময়েই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, বিহারের ফের সরকার বানাতে চলেছে এনডিএ। বিজয় উৎসবের প্রস্তুতি আগে থেকে নিয়ে রাখুন। জনতার মুড বলছে এবং কংগ্রেসের কথা বলে দিচ্ছে যে বিহারে ওরা হারবে। এজন্যই ভোটে পরাজয়ের কারণ খুঁজছে।

সীতামারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনী প্রচারের সেই ভিডিও আবারও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

অমিত শাহও একটি সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।  এনডিএর প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ১৬০-এর আশেপাশে হবে। বাকি আসনগুলি বিরোধীরা ভাগাভাগি করে পাবে। বিজেপির চাণক্যর এই ভবিষ্যদ্বাণী ফলে গেল। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই জয়লাভ করল এনডিএ।

বিহারে জয়ের আভাস মিলতেই বিহারবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি লিখেছেন, “বিহারের জনতার প্রতিটি ভোট এটা প্রমাণ করে দিল যে, তাঁরা অনুপ্রবেশকারী এবং অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে মোদী সরকারের নীতির প্রতি আস্থা রাখেন। অনুপ্রবেশকারীরা দেশের সম্পদের শোষণ করে। তার পরও যারা ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দেয়, তাদের যোগ্য জবাব দিয়েছেন বিহারের জনতা। তারই প্রমাণ দিল বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের এই ফল।“  

সবমিলিয়ে বাজিমাত করলেন নীতীশ কুমার ও চিরাগ পাসওয়ান।  বিজেপি এবং এনডিএ শিবিরের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির পর্দাফাঁস করার পরও কী করে লাভবান হলেন এই দুজন ? তা এখনও স্পষ্ট নয় বিরোধীদের কাছে।

অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর হাইড্রোজেন বোমা ফাটানোর পরও তা কেন কোনও চমৎকার করতে পারল না ?  রাহুল গান্ধীর ভোটচুরির তত্ত্ব কি তবে মেনে নিল না বিহারের মানুষ ?  সেই প্রশ্নও উঠছে।

বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা প্রথম দিকে যে হারে এগোচ্ছিল, তাতে স্পষ্ট ক্ষমতাসীন এনডিএ ১২২ পার করে ১৯০-এরও বেশি আসন লাভ করে   সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে।   নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথমদিকে ১৭২-এর বেশি বিধানসভা আসনের মধ্যে ইন্ডিয়া জোট ৫১-র কাছাকাছি আসন পাবে। ৬ এবং ১১ নভেম্বর দুই দফায় হয়েছে বিহার বিধানসভার ভোটগ্রহণ। সবচেয়ে বেশি সময়ে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী থেকেছেন নীতীশ কুমার। তবে এবারের ভোট নীতীশ কুমারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।