রামমন্দিরে দানের টাকা চুরির অভিযোগে উদ্বিগ্ন মোদী, জানালেন নির্মাণ কমিটির প্রধান।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তোলপাড়। এর জেরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বিগ্ন বলে জানালেন রামমন্দির নির্মাণ কমিটির প্রধান তথা অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার নৃপেন্দ্র মিশ্র। তাঁর বক্তব্য, শুধু ভক্তদের দানের অর্থ নয়, মন্দিরের প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও চিন্তিত প্রধানমন্ত্রী।
এক সাক্ষাৎকারে নৃপেন্দ্র বলেন, “প্রধানমন্ত্রী উদ্বিগ্ন। তাঁর উদ্বেগের দু’টি দিক রয়েছে। প্রথমত, ভক্তদের দানের অর্থের নিরাপত্তা। দ্বিতীয়ত, এই ঘটনা মন্দিরের প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা তুলে ধরেছে। একটি ভেঙে পড়া ব্যবস্থাকে কী ভাবে সুস্থ ও স্বচ্ছ ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করা যায়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।”
চুরির অভিযোগের তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। তবে তদন্তের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ। নৃপেন্দ্র জানান, মন্দির চত্বরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডিং সর্বোচ্চ ৪৫ দিন পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকে। তার পর তা স্বয়ংক্রিয় ভাবে মুছে যায়।

তাঁর কথায়, “সিসিটিভি ফুটেজের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ রয়েছে। দানঘরে লাগানো ক্যামেরার ফুটেজ ৪৫ দিন পর স্বয়ংক্রিয় ভাবে মুছে যায়। অবশ্য তা মুছে যাওয়ার আগে ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষণ করা যেত। কিন্তু সেই ব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
মন্দিরে দান গ্রহণের বর্তমান ব্যবস্থার ব্যাখ্যাও দেন নির্মাণ কমিটির প্রধান। তিনি বলেন, কোনও ভক্ত যদি সোনা, রুপো বা গয়না সরাসরি জমা দেন, সে ক্ষেত্রে রসিদ দেওয়া হয়। কিন্তু মন্দিরের সামনে রাখা দানপাত্রে যে নগদ অর্থ, আংটি, কানের দুল বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ফেলা হয়, তার হিসাব রক্ষার ক্ষেত্রে আরও কড়া ব্যবস্থা প্রয়োজন।
নৃপেন্দ্রর মতে, “সঠিক হিসাব না থাকলে সন্দেহ তৈরি হবেই। গত কয়েক মাসের দানের প্রবণতা, দর্শনার্থীর সংখ্যা এবং জমা পড়া অর্থের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে একটি স্বচ্ছ পদ্ধতি গড়ে তুলতে হবে।”

এ দিকে তদন্তে নেমে বুধবার রামমন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং প্রশাসক গোপাল রাওকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিট। দানের অর্থের ব্যবস্থাপনা, মন্দিরের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে তাঁদের প্রশ্ন করা হয়।
তদন্তকারী দলটি লখনউয়ের বিভাগীয় কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্ত, আইজি কিরণ এস এবং অর্থ দফতরের বিশেষ সচিব নীল রতনকে নিয়ে গঠিত। দলটি মন্দিরের সেই কক্ষও পরিদর্শন করেছে, যেখানে দান হিসেবে পাওয়া গয়না সংরক্ষণ করা হয়।
সূত্রের দাবি, ট্রাস্ট, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এবং অর্থ গণনার দায়িত্বে থাকা সংস্থার প্রায় ৪০ জন কর্মী দুই শিফটে দানের অর্থ গণনার কাজ করেন। অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে এখন তাঁদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।