তৃণমূলের একাংশের মতে, ভোটের আগে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা জোরালোভাবে তুলে ধরতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী লড়াই জমে উঠেছে। একদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পর্বে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর উপস্থিতি ‘মেরুকরণ’-এর ইঙ্গিত দিয়েছিল, তেমনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়নকে ঘিরে উঠে আসছে ‘বহুত্ববাদ’-এর বার্তা। ফলে এই কেন্দ্রে মূল লড়াই কেবল রাজনৈতিক নয়, আদর্শগত বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়ন জমা দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই মনোনয়ন ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেস বিশেষ কৌশল নিয়েছে বলেই দলীয় সূত্রে খবর। ভবানীপুরের ‘কসমোপলিটন’ চরিত্রকে সামনে রেখে প্রস্তাবকদের তালিকায় রাখা হচ্ছে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের। এর মাধ্যমে ভোটারদের কাছে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী।
দলীয় সূত্রের দাবি, প্রস্তাবকদের তালিকায় থাকতে পারেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী রুবি হাকিম, ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল ব্লক সভাপতি বাবলু সিং এবং ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটির মীরজ শাহ। অর্থাৎ, মনোনয়ন প্রক্রিয়াতেই সমাজের বহুত্ববাদী চরিত্রকে প্রতিফলিত করার চেষ্টা স্পষ্ট।
ভবানীপুর কেন্দ্রের সামাজিক বিন্যাসও এই কৌশলকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। কলকাতা পুরসভার আটটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্রে যেমন বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা রয়েছে, তেমনই গুজরাতি, পঞ্জাবি, মারওয়ারি, জৈন, মুসলিম-সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের বসবাস। বিহার, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে আসা মানুষের উপস্থিতিও এখানে উল্লেখযোগ্য। এই বৈচিত্র্যের কারণেই ভবানীপুরকে অনেকেই ‘মিনি ইন্ডিয়া’ বলে থাকেন।
মনোনয়নের দিন বড় মিছিলেরও পরিকল্পনা করেছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, ফিরহাদ হাকিম, দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতি দেবাশিস কুমার-সহ এলাকার নেতারা উপস্থিত থাকবেন। মিছিলেও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তৃণমূলের একাংশের মতে, এই প্রতীকী উদ্যোগের মাধ্যমে ভোটের আগে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, ভবানীপুরের এই নির্বাচনে ‘মেরুকরণ বনাম বহুত্ববাদ’-ই হতে চলেছে অন্যতম নির্ণায়ক ফ্যাক্টর। মুখ্যমন্ত্রীর মনোনয়ন সেই লড়াইয়ের দিকনির্দেশ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।