রক্ষকই ভক্ষক! ভোপালে পুলিশের মারে নিহত যুবক

পার্টি করার জন্য মোটা টাকা দিতে অস্বীকার করায়, যুবককে বেধড়ক মার পুলিশের। হাসপাতালে মৃত্যু হল যুবকের

সন্দীপন চৌধুরী, সাংবাদিক : রাত বিরেতে অফিস থেকে বাড়়ি ফিরছেন? কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে বাড়ি ফিরছেন? ভয় কী আমাদের নিরাপত্তায় অতন্দ্র প্রহরী হয়ে আছে তো আমাদের রক্ষক পুলিশ। কিন্তু ধরুন যে পুলিশকে আমরা রক্ষক হিসেবে জানি , যদি সেই রক্ষকই ভক্ষক হয়ে ওঠে ? কী অবাক হচ্ছেন?  হ্যাঁ , ঠিক এই ধরণেরই এক ঘটনার সাক্ষী থাকল গোটা মধ্যপ্রদেশ। ভোপালে এক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র উদিত কুমার। উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে সম্প্রতি একটি সংস্থায় চাকরিও পেয়েছিলেন তিনি। ভোপালের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে গিয়ে ডিগ্রির শংসাপত্র সংগ্রহ অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন উদিত। ফেরার সময় বন্ধুদের আবদারে ইন্দ্রপুরীর সি সেক্টরে বন্ধুদের নিয়ে একটি পার্টির আয়োজন করেন তিনি। সেখান থেকে স্কুটি করে যাচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ সেখানে এসে উপস্থিত হন উর্দিধারী ২ কনস্টেবল। অভিযোগ পার্টি করার জন্য ওই ২ পুলিশকে দিতে হবে মোটা টাকা। কারণ জানতে চাইলে অশ্রাব্য ভাষায় গালি-গালাজের অভিযোগ। উদিত ও তাঁর বন্ধুদের মারধর করেন ওই  ২ পুলিশকর্মী। উদিতের বাবা মধ্যপ্রদেশের বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মী ও তাঁর মা একজন শিক্ষিকা। বাড়িতে ফোন করতে গেলে শুরু হয় উদিতের ওপর নির্মম অত্য়াচার। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, উদিত প্রতিবাদ করায় তাঁর পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া হয়। তার পর লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন দুই পুলিশকর্মী। তারপর সেখান থেকে চলে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় উদিতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় তাঁর বন্ধুরা। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মৃত্যু হয় উদিতের। উদিতের মৃত্যু পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় পুলিশের মারধরের সেই সিসিটিভি ফুটেজ। ঘটনার চাউর হতেই নড়েচড়ে বসে ভোপাল পুলিশ।

দুই কনস্টেবলের মারে স্নাতক অন্তিম বর্ষের ওই ছাত্রের মৃত্যুর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, কোনও ভোঁতা বস্তু দিয়ে ওই ছাত্রকে আঘাত করা হয়েছিল। এই মৃত্যু স্বাভাবিক না দুর্ঘটনাজনিত কারণে হয়েছে, প্রাথমিকভাবে দাবি করেছিল পুলিশ। দুই কনস্টেবল ওই যুবকের কাছ থেকে ১০,০০০ টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন নিহতের এক বন্ধু। টাকা না দেওয়ায় তাঁরা উদিত মারধর করেন এবং পরে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। 

ভোপাল জোন-২ এলাকার ডিসিপি বিবেক কুমার জানিয়েছেন এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সন্তোষ বামানিয়া এবং সৌরভ আর্য নামের ওই দুই কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করল পুলিশ। কিন্তু প্রশ্ন হল এই যে,  সাসপেনশন বা শাস্তি দিয়ে কি উদিতের প্রাণ ফিরবে? উদিতের মা-বাবার সন্তান হারানোর দুঃখ কি ঘুঁচবে?