জুয়ার ঠেকে হানা দিয়ে ২ যুবককে গ্রেফতার করছে ভাঙড় ডিভিশনের পোলেরহাট থানার পুলিশ
বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: ভাঙড়ে ডিজ়িটাল জুয়ার নেশায় মজেছে ৮ থেকে ৮০, সর্বস্বান্ত সাধারণ মানুষ, ক্যাসিনো জুয়ার সঙ্গে তাবড় নেতা যুক্ত বলে বিস্ফোরক দাবি করেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। সেই জুয়ার আসরে হানা দিয়ে দুই যুবককে গ্রেফতার করছে পুলিশ।
ভাঙড়ের হাতিশালায় অনলাইন জুয়ার রমরমা কারবারের খবর সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসল কলকাতা পুলিশ। ভাঙড় ডিভিশনের পোলেরহাট থানার পুলিশ তড়িঘড়ি অনলাইন জুয়ার ঠেকে হানা দিয়ে দুই যুবককে গ্রেফতার করল। এর পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত করেছে বহু কম্পিউটার।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, হাতিশালায় একটি দোকান ভাড়া নিয়ে অনলাইন জুয়ার রমরমা কারবার শুরু হয়। সেই খবর পেয়ে জুয়ার ঠেকে অভিযান চালায় পোলেরহাট থানার পুলিশ। অনলাইন জুয়া পরিচালনার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। এর পাশাপাশি দোকান থেকে মিলেছে একটি কম্পিউটার, প্রিন্টার, বেশ কিছু অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত কুপন এবং নেট সংযোগের ডিভাইস।
ভাঙড়ের হাতিশালা সিক্স লেন ইনফোসিস তথ্য প্রযুক্তির ক্যা ম্পাস থেকে মাত্র দুইশো মিটার দূরত্বে একচিলতে টালির চালের ঘরে ভিড় জমায় স্কুল পড়ুয়া থেকে বয়স্করা। কেউ বাজারের ব্যাগ হাতে ঢোকে, কেউ বা কাজে যাওয়ার সময় যায়। বেরোবার সময় কেউ হাসেন, আবার কেউ মাথা চাপড়ান। ভিতরে কী হচ্ছে, দেখে বোঝার উপায় নেই।

এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, দোকান আবার কী! ওই সব ঘরে ডিজ়িটাল লটারির নামে আদতে ‘ক্যা সিনো জুয়া’ চলে। এখানে প্রতিদিন সর্বস্বান্ত হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। তবু, খেলার বিরাম নেই। লটারির নেশায় মানুষ এতটাই বুঁদ হয়ে গিয়েছেন যে সকালে বাজারের টাকা নিয়ে বেরিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। অশান্তি হচ্ছে, তবুও, খেলা চাই। স্কুল পড়ুয়ারা টিফিনের টাকা নিয়ে স্কুলে না গিয়ে সোজা ঢুকে পড়ছে দোকানে। বেশি ভিড় করছেন বেকাররা। ওই সব ঘরে রয়েছে একাধিক কম্পিউটার। প্রতিটি কম্পিউটারে একজন করে অপারেটর আছে।
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে হাতিশালা সিক্স লেন এলাকায় এই ডিজিটাল জুয়া খেলা চলছিল। এক মাস আগে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে বহু কম্পিউটার, হার্ডডিস্ক বাজেয়াপ্ত করেছিল বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। তারপর থেকে কিছু দিন বন্ধ ছিল এই জুয়ার রমরমা। এখন আবার নতুন করে চালু হয়েছে। মানুষ জুয়া খেলে সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি কাঁচা টাকা আয়ের লোভে ভিড় জমাচ্ছে এলাকার দুষ্কৃতীরাও।

কী ভাবে এই ডিজ়িটাল জুয়া চলে?
এক কারবারি বলেন, ‘‘এটা এক রকম আধুনিক সাট্টা। ১০ টাকা খেললে ১০০ টাকা পাওয়া যায়। অনেকে ১০০ টাকা লাগিয়ে এক হাজার টাকা আয় করেন। আবার কেউ হাজার টাকা লাগিয়ে সর্বস্বান্ত হন। এই পুরো লটারিটা চলে কম্পিউটারে একটি বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে।’’
কী ভাবে এই জুয়া এলাকায় চলে?
ওই কারবারি জানান, কলকাতার এক ব্যবসায়ীর থেকে এই সফটওয়্যার ভাড়া পাওয়া যায়। আর এলাকায় এই ব্যবসা চালু করতে, স্থানীয় থানা ও রাজনৈতিক নেতাদের মোটা টাকা দিতে হয়। শুধু তাই নয় এছাড়াও থাকে মাসোহারার ব্যবস্থা। কারণ, এই ব্যবসা থেকে প্রতিদিন ২-৩ লক্ষ টাকা আয় হয়। তাই সবাইকেই ‘তোলা’ দিতে হয়।
অনলাইন এই জুয়ার বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূলের তাবড় নেতা এই ক্যােসিনো জুয়ার সঙ্গে যুক্ত আছে। তৃণমূলের ছত্রছায়ায় থেকে এই ধরনের কারবার চলছে। পুলিশের একটা অংশ এর ভাগ নিচ্ছে। এটা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে এ বিষয়ে অভিযোগ জানাব।”