মাটিয়া যৌন পল্লীতে মানবিক ভাইফোঁটা উদযাপন পুলিশের, খুশি যৌন পল্লীর বাসিন্দারা।
শ্যাম বিশ্বাস বসিরহাট: মাটিয়া পুলিশের মানবিক উদ্যোগ। যৌন পল্লীতে গিয়ে ভাইফোঁটা নিলেন পুলিশ আধিকারিকরা। এক বিরল মানবিক উদাহরণ স্থাপন করলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার পুলিশ আধিকারিকরা। ভাইফোঁটার পবিত্র দিনে তাঁরা সমাজের প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে উদযাপন করলেন ভ্রাতৃত্বের উৎসব। সোনাগাছির পর রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম যৌন পল্লী হল বসিরহাটের মাটিয়া। সরকারি হিসাবে এখানে প্রায় এক হাজার যৌনকর্মী বসবাস করেন, যদিও বাস্তবে সেই সংখ্যা আরও বেশি। বহু বছর ধরে এই পল্লী সমাজের প্রান্তে অবস্থান করলেও, এদিনের উদ্যোগে সেই অন্ধকার গলির মুখে ফুটে উঠল এক অন্যরকম আলো। মাটিয়া থানার পুলিশ আধিকারিকরা নিজেরাই মাটিয়া যৌন পল্লীতে গিয়ে যৌনকর্মীদের হাত থেকে ভাইফোঁটা নিলেন। মিষ্টি এবং উপহার বিনিময় করলেন। একদিকে পুলিশের চোখে মমতা, অন্যদিকে বোনেদের মুখে লাজুক হাসি — মুহূর্তের জন্য মুছে গেল সমাজের সমস্ত ভেদরেখা।


এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “আমরা চাই সমাজের সব স্তরের মানুষ নিজেদের মূল্যবান মনে করুন। তাঁরা যেমন সমাজের অংশ, আমরাও তেমনই তাঁদের ভাই। যৌনকর্মীরা জানান, “পুলিশের এমন উদ্যোগ তাদের জীবনে এক বিরল অভিজ্ঞতা — ভালোবাসা, মর্যাদা ও সম্মানের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্যোগটিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। ভাইফোঁটার এই পবিত্র দিনে মাটিয়া থানার পুলিশ শুধু উৎসবই উদযাপন করল না, মানবিকতার এক নতুন দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে। জানা যাচ্ছে এই যৌনপল্লী তৈরি হয়েছিল বহুবছর আগে। তৎকালীন ধান্যকুড়িয়ার জমিদার গায়েন বাড়ির কত্তারা তাঁদের নাচমহলে দেশ বিদেশ থেকে নামিদামি নর্তকী আসতেন মনোরঞ্জনের জন্য। সেই মনোরঞ্জন পাওয়ার পর জমিদারদের জন্। মাটিয়ায় বর্তমান যৌনপল্লীর স্থানে তাদের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করা হত। সেই সময় থেকে ধীরে ধীরে মাটিয়ার এই জায়গাটি যৌনপল্লীর রূপ নেয়। আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগের ঘটনার ইতিহাস বহন করে চলেছে এই যৌনপল্লীর কাহিনী।


যৌন পল্লীর বাসিন্দারা তো সেভাবে ভাইফোঁটার উৎসব উদযাপন করতে পারেন না। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ আধিকারিকদের এই উদ্যোগে বেশ খুশি তাঁরা। শুধুমাত্র ভাইফোঁটা নয়, পুলিশ আধিকারিকদের সমস্তরকম সহযোগিতা পাচ্ছেন বলেও জানাচ্ছেন যৌন পল্লীর বাসিন্দারা। যৌন পেশায় আসার পর মা-বাবা, ভাই বোনদের সঙ্গে সম্পর্ক প্রায় নেই। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ আধিকারিকদের ভাই হিসেবে পেয়ে খুশি মাটিয়া যৌন পল্লীর বাসিন্দারা।