বারুইপুরে ‘এনকাউন্টার’-এ অভিযুক্তের মৃত্যু, পুলিশের কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিলেন দিলীপ ঘোষ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলা মূল অভিযুক্তের পুলিশের সঙ্গে ‘এনকাউন্টার’-এ মৃত্যুর পর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশও অন্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির মতোই কঠোর পদক্ষেপ করবে। তাঁর কথায়, ‘‘অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও রকম সহনশীলতা দেখানো হবে না।’’
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ বলেন, ‘‘গুজরাত, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, অসম এবং মধ্যপ্রদেশে পুলিশ যেভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করে, পশ্চিমবঙ্গেও পুলিশ সেই একই স্বাধীনতা পাবে। আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে যা যা প্রয়োজন, সব পদক্ষেপ করা হবে। অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে থাকবে নো টলারেন্স নীতি।’’
বুধবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ধৃত মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয় পুলিশের গুলিতে। বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপারের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত আচমকাই এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিও চালায় বলে অভিযোগ। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। তাতে গুরুতর জখম হন প্রভাস। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, রাজ্যে অপরাধ দমনে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শমীকের কথায়, ‘‘কোনও অপরাধীকে ছাড়া হবে না। নির্বাচনের আগে বাংলার মহিলাদের আমরা ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীও সেই বার্তাই দিয়েছিলেন। ইস্তাহারে যা বলা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের দিকেই সরকার এগোচ্ছে।’’
এ দিকে, অভিযুক্তের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে পৌঁছন তাঁর মা ও স্ত্রী। বর্তমানে অভিযুক্তের দেহ হাসপাতালেই রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
বারুইপুরের এই ‘এনকাউন্টার’ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এক দিকে সরকার ও বিজেপি পুলিশের পদক্ষেপকে অপরাধ দমনের কড়া বার্তা হিসেবে তুলে ধরছে, অন্য দিকে বিরোধীদের একাংশ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের অপেক্ষায় প্রশাসনও।