যেদিকে সবচেয়ে বেশি নজর থাকে, কালীপুজোর রাতে কেমন থাকছে বাতাসের মান? এবারেও ফল কিছুই বদলাল না। কালীপুজোর রাতে মাত্রা ছাড়াল বায়ু দূষণ।
সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধি: পুলিশ-প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময় পেরিয়ে গেলেও বাজির তাণ্ডব কমল না কলকাতা এবং তার আশপাশ এলাকায়। মধ্যরাতেও বিধি ভেঙে দেদার বাজি ফাটল প্রায় সর্বত্র। একই সঙ্গে বাড়ল বাতাসে দূষণের মাত্রাও। কলকাতা এবং তার আশপাশ এলাকার গড় একিউআই সন্তোষজনক। কিন্তু রাত ১২ টার পর তাৎক্ষণিক হিসাবে বালিগঞ্জ, বিধাননগর এলাকায় দূষণের সর্বোচ্চ মাত্রা ৪০০-র গণ্ডি পেরিয়ে যায়।

রাত সাড়ে ১০টা- ১১টার পর থেকে কলকাতার বিভিন্ন অংশে শব্দবাজি ফাটানোর ঘটনা বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি বারুদের গন্ধে শহরের বাতাসও ভারী হতে শুরু করে! দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কন্ট্রোল রুমে রাত সাড়ে নটা পর্যন্ত ১৭টি অভিযোগ জমা পড়ে। প্রায় সবক’টি বাজি সংক্রান্ত। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স, যা বাতাসের গুণমানকে বুঝিয়ে থাকে, সেই তথ্য অনুযায়ী, এদিন সন্ধ্যা থেকে ক্রমে খারাপ হয়েছে শহরের চারটি মূল কেন্দ্রের আবহ। যথাক্রমে নিউটাউন, দমদম, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সংলগ্ন এলাকা এবং যাদবপুর। যত্রতত্র ফেটেছে চকোলেট বোমা। আকাশে উড়েছে সেল। যার জেরে শহরের বাতাসে বেড়েছে বিষের পরিমাণ। সোমবার সবচেয়ে বেশি বিষ-বায়ু রেকর্ড হয়েছে নিউটাউনে। সেখানে বাতাসে একিউআই ছিল ১৯৯। এরপরেই দমদম, সেখানে আবার একিউআই ছিল ১৪০। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সংলগ্ন এলাকার একিউআই ছিল ১৩৭। কসবায় ১০৫ ও যাদবপুরে ১০২।

অন্যদিকে দমদম স্টেশনের আগে এবং পরে লোকাল ট্রেনের কামরা লক্ষ্যর করে শব্দবাজি ছুড়ে মারার বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। শুধু লোকাল ট্রেন নয়, মেট্রোর কামরা লক্ষ্য করে চকোলেট বোমা ছুড়ে মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেলগাছিয়া আর দমদম স্টেশনের মাঝে মেট্রোয় এই ঘটনা ঘটেছে। বেলগাছিয়া পেরিয়ে কিছু দূর যাওয়ার পরে মেট্রো মাটির তলা থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে এবং কংক্রিটের পুলের উপর দিয়ে দমদমে পৌঁছোয়। মেট্রোর ওই পুলের দু’পাশেই ঘন জনবসতি রয়েছে। রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে ওই এলাকায় মেট্রোর কামরা লক্ষ্য করে শব্দবাজি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে।
পরিবেশকর্মীরা বলছেন, দিল্লি ও লাগোয়া এলাকায় কালীপুজো–দিওয়ালির বেশ খানিকটা আগে থেকেই বাতাসের মান খারাপ হচ্ছিল। বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম ও অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণার অর্থাৎ পার্টিকুলেটেড ম্যাটার বা পিএম–২.৫ এবং পিএম–১০-এর মাত্রাও বাড়ছিল ক’দিন ধরে। সেখানে অনেক জায়গাতেই বাতাসের দূষণমাত্রা বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই ৩০০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। কারণ, সেখানে তাপমাত্রা খানিকটা কমেছে।