মঙ্গলেও অমঙ্গল! কালীপুজোর দ্বিতীয় দিনেও লাগামছাড়া দূষণ

সোমবারে কালীপুজোর রাতে কোনভাবেই রাশ টানা যায়নি শব্দ ও বায়ূ দূষণে, সোমবারের পর মঙ্গলবার রাতেও ঘটল সেই একই ঘটনা। একইভাবে লাগামছাড়া হল দূষণ।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সোমবারের রাতের পুনরাবৃত্তি ঘটল মঙ্গলবারেও। কালীপুজোর রাতে শব্দবাজি ফাটানো রুখতে কড়া নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্ট। রাজ্যে বাজি পোড়ানোর সময়ও নির্দিষ্ট করে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধের পর তেমন কোনও সমস্যা না হলেও রাত বাড়তেই শব্দবাজির দাপট বেড়েছে বলে অভিযোগ। উত্তর, মধ্য, দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় শব্দবাজি ফাটানোর আওয়াজ শোনা গিয়েছে! প্রশাসনের কাছে একাধিক অভিযোগও জমা পড়ছে বলে খবর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার জনবসতিপূর্ণ অঞ্চল ট্যাংরা ও কালিকাপুরে শব্দের মাত্রা ছিল ৭৩ ও ৫৮ ডেসিবেল।বালিগঞ্জে ৬০, লেকটাউনে ৬০, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ৬৪, বেথুন কলেজের কাছে প্রায় ৭৩ ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ৭৮ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছেছিল শব্দ। শব্দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দূষণ ছড়িয়েছে বাতাসেও। রাত ১১টার সময়ে পিএম ২.৫ হিসাবে বাতাসের গুণমানসূচক বালিগঞ্জে ১৬৯, যাদবপুরে ২০৪ ও ভিক্টোরিয়াতে ২৫৯ ছিল। প্রসঙ্গত, গুণগত মানের হিসাবে ১০১ থেকে ২০০ পর্যন্ত মাত্রা ‘মাঝারি’ ও ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত ‘খারাপ’।

এবার কালীপুজোয় রাজ্যে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি পোড়ানো যাবে বলে আদালত নির্দেশ দেয়। শব্দবাজি ফাটানোর উপর নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। কিন্তু রাত বাড়তে সেই শব্দবাজি ফাটানোর আওয়াজও শোনা যেতে লাগল। সল্টলেক চত্বরেও শব্দবাজি ফাটানোর অভিযোগ উঠেছে।

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, দিল্লি ও লাগোয়া এলাকায় কালীপুজো–দিওয়ালির বেশ খানিকটা আগে থেকেই বাতাসের মান খারাপ হচ্ছি‍ল। বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম ও অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণার অর্থাৎ পার্টিকুলেটেড ম্যাটার বা পিএম–২.৫ এবং পিএম–১০-এর মাত্রাও বাড়ছিল ক’দিন ধরে। সেখানে অনেক জায়গাতেই বাতাসের দূষণমাত্রা বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই ৩০০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। কারণ, সেখানে তাপমাত্রা খানিকটা কমেছে। যদিও মঙ্গলবার সকালে সিপি মনোজ ভর্মা বলেন, ‘‘শব্দ ৯০ ডেসিবলের থেকে কম রয়েছে মানে তা সীমার মধ্যেই রয়েছে। এ সংক্রান্ত সীমা ১২৫ ডেসিবল। এ ছাড়া, আমরা সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বায়ুদূষণের উপরেও নজর রেখেছিলাম। তখনও পর্যন্ত সারা ভারতের অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় কলকাতায় দূষণ কম ছিল।