জনপ্রিয় গায়িকা নেহা কক্করের নাম জড়াল আর্থিক দুর্নীতি মামলায়

তবে কি গ্রেফতার করা হবে গায়িকাকে? তবে কি গ্রেফতার করা হবে গায়িকাকে?

রিয়া হালদার, সাংবাদিক: আন্তর্জাতিক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মএ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন এক ব্যবসায়ী ।দীর্ঘ কয়েকমাস পর লভ্যাংশের টাকা ফেরত না পেয়ে ব্যবসায়ী বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হচ্ছেন । এর পরই তিনি অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগকারী ওরলির বিডিডি চালের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট শবনম মোহাম্মদ হুসেন সৈয়দ, ২০২৫ সালের জুন মাসে প্রতারণামূলক অনলাইন কন্টেন্ট দেখতে পান।এই প্লাটফর্মে নেহা কক্করের নাম এবং ছবি ব্যবহার করা হয়েছিলো ,এটিকে বিশ্বাসযোগ্যতা দেবার জন্য।অভিযোগকারী নেহা কক্করকে দেখে টাকা বিনিয়োগের জন্য উতসাহী হয়েওঠেন এবং প্রতারণামূলক প্রচারণায় বিশ্বাসী হয়ে পড়েন ওই ব্যাক্তি।, সৈয়দ আন্তর্জাতিক ফোন নম্বর ব্যবহার করা হয়।, টেলিগ্রাম এবং জুম সেশনের মাধ্যমে দুই ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ শুরু করেন ওই বিনিয়োগকারী। একজন নিজেকে বিজয় এবং অন্যজন জিমি ডি’সুজা বলে পরিচয় দেন। অভিযুক্তরা তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা জোরদার করার জন্য পেশাদার ইমেল আইডিও ব্যবহার করে।স্ক্যামাররা সৈয়দকে একটি ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে সাহায্য করেছিল। অভিজ্ঞ আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে টেলিগ্রামের মাধ্যমে “বিনিয়োগের টিপস”ও শেয়ার করেছিল। ১৮ জুন থেকে ৯ অক্টোবর, ২০২৫ সালের মধ্যে, সৈয়দ তার এইচ.ডি এফ সি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ইউ পি আই এর মাধ্যমে মোট ৫,০২,০২৫লক্ষ টাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে পাঠান।বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও, সৈয়দ লাভ বা ফেরত পাননি বলে জানা তিনি। প্রতারিত হওয়ার কথা বুঝতে পেরে তিনি পুলিশের কাছে যান এবং অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশি তদন্ত শুরু করেছে ওয়ারলি পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তথ্য প্রযুক্তি আইন আইটি অ্যাক্টে মামলা করেছে। তদন্তকারীরা দোষীদের খুঁজে বের করার জন্য টেলিগ্রাম চ্যাট, জুম মিটিং রেকর্ড এবং UPI লেনদেনের ট্রেইল বিশ্লেষণ করছেন।


বলিউড গায়িকা নেহা কক্করের নাম ব্যবহার করে একটি ভুয়া আন্তর্জাতিক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের প্রচারের অভিযোগে স্ক্যামারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ওয়ারলির ৪৫ বছর বয়সী এক আইনজীবীর কাছ থেকে ৫.০২ লক্ষ টাকা প্রতারণা করা হয়েছে।তবে এটা প্রথম নয় এর আগেও গায়িকা নেহা কক্করকে গ্রেপ্তারের কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ পায়.। গায়িকা নেহা কক্করের ভক্তরা হতবাক হয়ে যান । ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, নেহা একজন পুলিশ সদস্যের হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে কাঁদতে বেরিয়েছিলেন। ছবিটি শেয়ার করার পর ক্যপশানে লেখা হয় “নেহা কক্করের ক্যারিয়ারের করুণ সমাপ্তি! খবরটি সমস্ত ভারতীয় মানুষের কাছেই এক ধাক্কা! তবে, ছবিগুলি শেয়ার করার পরপরই জানা যায় যে সেগুলি ভুয়া। ভাইরাল হওয়া ছবিগুলি এআই তৈরি করেছে। আসল ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ কর্মকর্তারা একজন মহিলাকে গ্রেপ্তার করছেন। তবে, ভাইরাল হওয়া ছবিগুলিতে, মহিলার মুখ নেহা কক্করের মুখের সাথে বদলে দেওয়া হয়েছে। গায়িকা অবশ্য ভাইরাল হওয়া ছবিগুলির বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি।এবারে আর্থিক স্ক্যামে ভুয়ো নাম ব্যবহার করে গায়িকাকে যেভাবে জড়ানো হয়েছে তাতে তার অনুরাগীরা বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছেন না। নেহার তরফ থেকে অবশ্য় এখনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি এই বিষয়ে। তবে শুধু নেহা নন। এর আগে অন্য তারকাদের ছবি ব্যবহার করেও অনলাইন আর্থিক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে।
প্রতারকরা ভুয়া সংবাদ দিয়ে ভারতীয় সেলিব্রিটিদের টার্গেট করে, ব্যবহারকারীদের বিনিয়োগে উতসাহিত করার চেষ্টা চলছে ।সাম্প্রতিককালে এক তদন্তে দেখা যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে একাধিক ভুয়া সংবাদ এবং বিজ্ঞাপনের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে ভারতীয় সেলিব্রিটিদের ‘গ্রেপ্তার’ করার মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এই জালিয়াতিগুলির লক্ষ্য নেটিজেনদের বিভ্রান্ত করে বিনিয়োগে জালিয়াতি করা। মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে ।