জয়নগরে পোস্টার বিতর্ক

বিধায়কের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে পোস্টার শুরু রাজনৈতিক তরজা।

বিশ্বজিৎ নস্কর, সাংবাদিক: আসন্ন ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে জয়নগর বিধানসভা এলাকায় একাধিক পোস্টার ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চর্চা। শুক্রবার সকালে জয়নগর বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে হঠাৎ দেখা যায় পোস্টার, যেখানে জয়নগরের বিধায়ক বিশ্বনাথ দাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে লেখা হয়েছে— “বিধায়কের পরিবর্তন চাই”। পোস্টারের নীচে ‘সৌজন্যে তৃণমূল কর্মীরা’ উল্লেখ থাকায় বিষয়টি আরও জটিল আকার নিয়েছে।
জয়নগর শহর, স্টেশন সংলগ্ন এলাকা, বাজার চত্বর ও কয়েকটি ব্যস্ত মোড়ে এই পোস্টারগুলি লাগানো হয়। শুক্রবার সকালে দোকানপাট খোলার সময় সাধারণ মানুষের নজরে আসে বিষয়টি। এরপর থেকেই এলাকায় শুরু হয় জোর রাজনৈতিক আলোচনা।
তবে পোস্টারে উত্থাপিত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির দাবি, শাসকদলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এমন পোস্টার পড়েছে।
বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “এই পোস্টার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উন্নয়নের কাজ ব্যাহত করতেই পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষ তাঁর সঙ্গে আছেন এবং এই ধরনের পোস্টারে বিভ্রান্ত হবেন না।
জয়নগরের রাজনৈতিক অন্দরে এই পোস্টার বিতর্ক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখন জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।
এ বিষয়ে জয়নগর বিজেপি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উৎপল নস্কর তিনি জানান, মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। টাকার বিনিময়ে পঞ্চায়েতের প্রধান থেকে উপপ্রধান সমস্ত পদে বসেছেন বিধায়ক। জয়নগরের শুধু তৃণমূলের বিধায়কের পরিবর্তন চাই না আমরা আমরা চাই জয়নগরের থেকে তৃণমূলের পরিবর্তন। দুর্নীতিগ্রস্ত বিধায়কের বিরুদ্ধে যারা পোস্টার লাগিয়েছে তারা দলেরই কর্মী। তৃণমূলের দলের মধ্যেই বিধায়কের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দক্ষিণ 24 পরগনার জেলার সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য অপূর্ব প্রামাণিক তিনি বলেন, এই পোস্টারে বিতর্ক! সৌজন্যে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরাই লেখা রয়েছে। বিধায়কের বিরুদ্ধে তৃণমূল কর্মীদেরই ক্ষোভ। টাকার বিনিময়ে যারা জনপ্রতিনিধিত্ব পদে বসে যায় তারা ভাবে যে রাজনীতিতে ব্যবসার মতন ইনভেস্ট করছে। তারা ওই পদের ব্যবহার করে ইনভেস্ট করার টাকা তোলে। বিধায়কের বিরুদ্ধে দলের গোষ্ঠী কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ। এ বিষয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সদস্য তৃণমূলের খান জিয়ারুল হক তিনি জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের নাম করেই বিরোধীরা এই পোস্টার দিয়েছে আমরা চাই প্রশাসন এর সঠিক তদন্ত শুরু করুক। দলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কর্মীরা এইরকম আচরণ করতে পারে না। এই ঘটনা তীব্র নিন্দা জানাই।ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কে বা কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনের আগে এই পোস্টার ঘিরে তীব্র ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে জয়নগর বিধানসভায়।